নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে চাঁড়ালকাঁটা নদীর বালু লুটের মহোৎসব চলছে। সকাল থেকে রাত অবধি বাহাগিলি, চাঁদখানা, পুটিমারী ও নিতাই ইউনিয়নের অন্তত ২০টি পয়েন্ট থেকে বালু লুট করছে একাধিক সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের আমলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সারা দেশে নদী-নালা, খাল-বিল খনন করা হয়। খনন করা বালু নদীর দুই তীরে স্তূপ করে রাখা হয়। ২০২৩ সালে চাঁড়ালকাঁটা নদীর এসব বালু নিলামে বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সিন্ডিকেট করে লোক দেখানো টেন্ডারের মাধ্যমে এসব বালু লুট করেন। বালুখেকো সিন্ডিকেটটি সমঝোতা করে নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে এসব বালু লট কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করেন। তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। এখনো এ কার্যক্রম চলছে। জেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চাঁদখানা সারোভাষা ব্রিজের নিচ থেকে, বাহাগিলি ইউনিয়নের স্ট্রিল ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে, বাহাগিলি ডাংপাড়া গ্রামের পূর্বদিক, বাহাগিলি ময়নাকুড়ি সিনহা কোম্পানির সামনে, বাহাগিলি ঘোপাপাড়া, কালুরঘাট ব্রিজের পূর্বদিক, পাগলাটারী, নিতাই ইউনিয়নের মৌলভীরহাট, নিতাই পানিয়াল পুকুর, নিতাই মুশরুত বেলতলি, পুটিমারী ইউনিয়নের চৌধুরীর বাজার, কালিকাপুর ময়দানপাড়া, শালটিবাড়ি, খোকার বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদী খননের পর রাখা বালু দিনে-রাতে সিন্ডিকেটটি শত শত মাহিন্দ্র ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, বাহাগিলি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা জুগল চন্দ্র গোপনে নদীর চরসহ ওই স্তূপ করা বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা পদক্ষেপ নেয়নি। কিশোরগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাব-ডিভিশন-২ এর মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনটি লটের সময় বাড়ানো হয়েছে। অবশিষ্ট লটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। লটগুলোর বালু হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যা করার উপজেলা প্রশাসন করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হক বলেন, তিনটি লটের সময় বাড়ানো হয়েছে। বাকি লটগুলোর বালু লুট রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।