দিন দিন বেপরোয়া হচ্ছে নদী দখলদাররা। নদী রক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং দৃশ্যমান কাজ না হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না নদনদীর অবৈধ দখল। পরিবেশবাদীরা বলছেন, একশ্রেণির সুবিধাভোগী নতুন বসতভিটা, দোকানপাট ও শিল্পকারখানা গড়ে তোলায় দিন দিন নদীর গতিপথ বন্ধ হচ্ছে। এ যেন নদীর দেশে নদীই সংখ্যালঘু। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবৈধভাবে দখলে থাকা জমি উদ্ধারের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার ১৩টি নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৯১ কিলোমিটর। আর তালিকাভুক্ত ৪৬০ জনের দখলে সাড়ে ৭ একর। অভিযান পরিচালনা করে ১৩৩ জনের দখল করা প্রায় ৩ একর এলাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবেশবাদীদের মতে, দখলদারদের কবলে পড়ে নদী হারিয়েছে জীবন্ত সত্তা। ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ। দূষণ ও অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় মূল নদীর প্রবাহ অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। হত্যা করা হচ্ছে নদীগুলোকে। যেন দেখার কেউ নেই। নদী রক্ষা আইন আছে, রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধানও। কিন্তু আইনের প্রয়োগ না থাকায় বেপরোয়া হচ্ছে দখলকারীরা। বছরের পর বছর এমন অবস্থা চলতে থাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্টের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়ছেন স্থানীয় জেলেরা। জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা টাঙ্গনের মতো অনেক নদই এখন ধু-ধু বালুচর। খরা মৌসুমে পানি শুকিয়ে জেগে উঠছে চর। চর জেগে ওঠায় দিন দিন গতিপথ বন্ধের পাশাপাশি ছোট হয়ে আসছে নদীগুলোর সীমানা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠছে দখলদাররা। টাঙ্গন, শুক ও সেনুয়াসহ ১৩টি নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ দখলদাররা গড়ে তুলছে বসতভিটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। দখল আর সময়-অসময়ে অপরিকল্পিত খননে কোনোভাবেই প্রাণ ফিরছে না এসব নদীর।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত নদীর জমি দখল হতে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেন না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ফলে দিন দিন নদীর সীমানা ছোট হয়ে পরিণত হচ্ছে মরা খালে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী অচিরেই নিশ্চিহ্ন হবে। দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার এখন জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, নির্দেশনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নে বড় আকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। দেশের নদনদী অব্যাহতভাবে দখল হয়েছে, হচ্ছে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-নিরক্ষর, রাজনীতিক-ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের প্রায় সর্বস্তরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অবৈধভাবে নদী দখলের সঙ্গে যুক্ত। নদী রক্ষার জন্য সরকার কমিশন গঠন করলেও তারা উল্টো দখলদার ও দূষণকারীদের পক্ষে কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে তালিকা করে দখল হওয়া নদীর জমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকটি কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব জমি উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম যাকারিয়া।