চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি নষ্টসহ নানা কারণে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০। বহির্বিভাগে প্রতিদিন সেবা নেয় সহস্রাধিক শিশু-নারী-পুরুষ।
কয়েকজন কর্মচারী-চিকিৎসক-নার্স জানান, এ হাসপাতালে কিছু প্যাথলজিক্যাল, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা হয় না। হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, ৫৫৫টি যন্ত্রের মধ্যে ২৫৭টি অচল। এর মধ্যে এমআরআই ছাড়াও রয়েছে পালস অক্সিমিটারের মতো ছোট যন্ত্রও। এমআরআই যন্ত্র দীর্ঘদিন অচল থাকায় প্রিন্টার, কম্পিউটারসহ অন্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। সিটিস্ক্যান যন্ত্রটি নষ্ট ছিল প্রায় দুই বছর। সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। তবে ফিল্ম না থাকায় সিটিস্ক্যান বন্ধ। চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২১২টি। কর্মরত আছেন ১২৬ জন। এ ছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির ১৩৩ পদের ৬৫টি শূন্য। প্রায় ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের করিডর ও ওয়ার্ডে বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা ঘোরাঘুরি করেন। কতিপয় ওয়ার্ডবয়ের সহযোগিতায় রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানে প্রতি পরীক্ষানিরীক্ষায় সরকারি হাসপাতালের চেয়ে কমপক্ষে ২০-৪০ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় রোগীদের। এ ছাড়া কিছু চিকিৎসকও রয়েছেন যাঁরা সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষানিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন রোগীদের। এসব কারণে খরচ, ভোগান্তি বেড়েছে রোগী ও স্বজনদের।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২১২। কর্মরত আছেন ১২৬ জন। প্রায় এক যুগ ধরে হাসপাতালের এমআরআই যন্ত্রটি পুরোপুরি অচল হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি সিটিস্ক্যান যন্ত্রটি মেরামত করা হয়েছে। তবে ফিল্মের কারণে এক্স-রে, সিটিস্ক্যান বন্ধ রয়েছে। নতুন দরপত্র গ্রহণ এবং অনুমোদন হলে ফিল্ম পাওয়া যাবে। শিগগিরই চালু হবে। এরই মধ্যে হাসপাতালের অচল যন্ত্রপাতির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী থাকে। হাসপাতালের চতুর্থ তলা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। গণপূর্ত বিভাগ এটি হস্তান্তর করলে শয্যাসংকট কেটে যাবে। তবে চিকিৎসকসহ জনবলসংকট ও অচল যন্ত্রপাতি চালু করা গেলে রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করতে পারব। এর পরেও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের যাত্রা। পরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ হলে ২০০৬ সালে শুরু হয় স্বাস্থ্যসেবা।