সড়কে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, ছোট-বড় গর্ত, কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং। হবিগঞ্জের বানিয়াচং থেকে আজমিরীগঞ্জ ২১ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশই বেহাল। সামান্য বৃষ্টি হলেই এটি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গর্তে পানি জমে ঘটে দুর্ঘটনা, পরিণত হয় মরণফাঁদে। এখান দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয়রা জানান, বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কের কুন্ডরপাড় থেকে আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার লালমিয়া বাজার পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপসহ অসংখ্য যানবাহন। সড়কটি ব্যবহার করে ফতেহপুর, বিরাট উজানপাড়া, বিরাট ভাটিপাড়া, সুকড়িবাড়ি, জলসুখা, নগর, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। ব্যস্ততম এই সড়কে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এসব মানুষ।
সিএনজি অটোরিকশাচালক খাইরুল মিয়া জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন সংড়কটি সংস্কার না করায় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। বেশির ভাগ অংশে ইটের সলিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বহু গর্ত। গর্তে পড়ে অনেক সময় অটোরিকশার চাকা খুলে যায়। আবদুর রশিদ নামে এক যাত্রী বলেন, এই সড়কের দুর্ভোগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এক কথায় সড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নাইম ইসলাম বলেন, এই সড়ক ব্যবহার করে জেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে খুব শঙ্কায় থাকতে হয়।
অ্যাম্বুলেন্সচালক খুর্শেদ মিয়া বলেন, রোগীদের আনা-নেওয়া করতে হয় এই সড়ক দিয়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের খুব ভয় হয়। অসুস্থ রোগীদের নিয়ে গেলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সড়কে বেশি ঝাঁকুনির কারণে এমনটা হয়। ব্যবসায়ী আলী রহমান বলেন, শরীফ উদ্দিন সড়কের দুর্ভোগ কখন শেষ হবে জানি না। আমাদের মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে এলেও কাচের জিনিসপত্র ভেঙে যায়। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগে নেয়। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, জরুরিভিত্তিতে কিছু কিছু স্থান মেরামত করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০১৭ সালে এ সড়কের নির্মাণকাজ করে। এর পর সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডারও করা হয়। কিন্তু কোনো ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেননি। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও কাজ শুরু করা হবে।