নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বুড়িতিস্তা নদীর মনসারের ঘাটে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় তাদের। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগের শেষ নেই। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম ও গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর গভীরতা খুব বেশি না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো বানানো হয়। এর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল, রিকশাভ্যান, মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে পারলেও ভারী যানবাহন ওঠানো যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে এলাকার মানুষ সাঁকো ব্যবহার করে অতিকষ্টে চলাচল করেন। বর্ষায় তাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। এলাকা চরাঞ্চল হওয়ায় এবং নদীতে সেতু না থাকায় উন্নয়নও তেমন হচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটায় মানুষের জীবনযাত্রায় আসেনি উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন। তামিম ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, সেতু না হওয়ায় কৃষক তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। বর্ষা মৌসুমে যানবাহনে ফসল নিয়ে ৫ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে নিতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।
গোলমুন্ডা ইউনিয়নের হলদিবাড়ী গ্রামের কৃষক অলিয়ার রহমান বলেন, বর্ষাকালে নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা। সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসকের নেওয়ার উপায় থাকে না। বেশি কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। ঘাট পারাপারে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের আমিনুর রহমান বলেন, মনছের ঘাটে সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুসা বলেন, তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ অংশ নদীর ওপারে। এ ছাড়া গোলমুন্ডা, শৌলমারী ইউনিয়নেরও একই অবস্থা। এসব এলাকার মানুষ যোগাযোগ সমস্যায় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। নীলফামারী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসান বলেন, এখানে একটি সেতুর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।