ঋণ জালিয়াতি, মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন মামলার আসামি লকপুর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। বাগেরহাটে এ গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া রপ্তানিমুখী ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। ফকিরহাট উপজেলায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী এলাকায় মুনস্টার জুট মিলের সামনে গতকাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।
বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাগেরহাটে লকপুর ফিস প্রসেসিং লিমিটেড, রূপসা ফিস অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সাউদার্ন ফুডস লিমিটেড, বাগেরহাট সি ফুডস লিমিটেড, মুনস্টার জুট মিলস লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, বাংলাদেশ পলি প্রিন্টিং ইন্টান্যাশনাল লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি।
সি ফুডসের শ্রমিক আবদুল জলিল সরদার, মুনস্টার জুট মিলসের রিজিয়া বেগমসহ কয়েকজন জানান, লকপুর গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। বিগত সরকারের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের টাকা চাঁদা দিতে না পারায় ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে এ গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন হাজার হাজার শ্রমিক। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে লকপুর গ্রুপের বন্ধ ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ড দ্রুত খুলে দিয়ে শ্রমিক পরিবারগুলো বাঁচানো দাবি জানান।
গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন ঋণ জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের রোষানলে পড়ায় তার ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাক হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। জড়ানো হয় মিথ্যা মামলায়।