মিয়ানমারের রাখাইনে অস্থিরতার প্রভাবে টেকনাফ স্থলবন্দরে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে পণ্য আমদানি কমে গেছে ৯০ ভাগ। এ ছাড়া আরাকান আর্মি ৮ ডিসেম্বর রাখাইন দখলে নেওয়ার পর থেকে এ স্থলবন্দরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের পণ্য আমদানি। ফলে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ক্ষতির মুখে রয়েছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে টেকনাফ বন্দরে মাসে অন্তত ২০০ ইঞ্জিনচালিত বড় বোটে পণ্য আনা-নেওয়া হতো। ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে অনেকটা। মাসে ৪০-৪৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো। স্বাভাবিক সময় বন্দরে দিনে ১৫-২০টি নানা ধরনের ট্রলার ও জাহাজ চলাচল করত। টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘রাখাইনে আরাকান আর্মি ও দেশটির জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আমদানিতে ধস নেমেছে। গত এক বছরে ৯০ ভাগ আমদানি কমে গেছে। সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী জাহাজ এসেছিল।’ মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি কমে গেছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা বি এম আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৪৭ হাজার টন মালামাল। রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৫৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার মেট্রিক টন আমদানি হয়। রাজস্ব আদায় হয় ৮৭ কোটি টাকা। রাখাইনে যুদ্ধের প্রভাবে গত বছরের তুলনায় ১৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে যেসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সিমেন্ট। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিমেন্ট রপ্তানি হয়েছে ২৩৬ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯১ মেট্রিন টন সিমেন্ট রপ্তানি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে মিয়ানমার থেকে জান্তা সরকারের অধীনে মালামালগুলো বন্দরে আসত। ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি মিয়ানমার মংডু শহর দখলে নেওয়ার পর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আসতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে আসতে পারছে না। সরকার দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এ সমস্যা নিরসন হলে চলতি অর্থবছরে পণ্য আমদানি হবে আশা করছি।’টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘মিয়ানমারের অস্থিরতায় বন্দরের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন। এক বছর ধরে ঠিকমতো মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি করতে পারিনি। ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকার মালামাল মিয়ানমারে রয়ে গেছে।’ পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, দোকানদার ও শ্রমিকরা আর্থিক কষ্টে রয়েছেন।
বন্দরে এখন আগের মতো লোকজনের আসা-যাওয়া নেই বললেই চলে। তাই তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।