জনবলসহ নানা সংকট নিয়ে চলছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল না থাকায় সেগুলো অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন শত শত মানুষ। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে সেবার মান এখনো সন্তোষজনক নয়, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মঞ্জুরিকৃত পদ ১১০টি। শূন্য পদ ৩৪টি। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ থেকে নারী রোগী তুলনামূলকভাবে বেশি। উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিলিমা আক্তার (৩৮) বলেন, আমার এক বছরের মেয়েকে ভর্তি করেছি। বেড না পাওয়ায় বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ঠান্ডায় খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেকগুলো ওষুধ লিখে দিয়েছে ডাক্তার। লিখে দেওয়া সেই ওষুধগুলো এখানে না পেয়ে বেশি দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ প্রায় সব রোগী ও স্বজনদের। তারা বলেন, চিকিৎসক স্বল্পতা, ওষুধসংকট ও খাবার সরবরাহে সন্তোষজনক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। সুইপারসংকটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি তেমন না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ থাকলেও সেসবের সুবিধা তেমন পান না রোগীরা। নেই দক্ষ ল্যাব-টেকনিশিয়ান। চিকিৎসা নিতে আসা আবদুল কাদের (৫০) বলেন, জ্বর, পেটে ব্যথা ও বুকে ব্যথায় ভুগছি বেশ কিছুদিন ধরে। এখানে আসার পর ডাক্তার কয়েকটি টেস্ট দিল। প্রায় সবগুলোই বাইরে থেকে করে নিয়ে আসতে হবে। তাহলে এখানে এসে কী লাভ হলো?
মেয়ের ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের আফজাল হোসেন (৪৪) বলেন, হাসপাতালে আমি দুই দিন রয়েছি। খাবারের মান তেমন বেশি সুবিধাজনক নয়। প্রয়োজনীয় ওষুধও তেমন পাওয়া যায় না।
স্থানীয়রা জানায়, ভর্তি হওয়া রোগীরা রাতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক দেখার মতো ডাক্তার মেলে না। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, ইসিজি, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও টেকনিশিয়ান ও দক্ষ জনবলের অভাবে এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ কিছু চেকআপও বাইরে থেকে করে নিয়ে আসতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগ, ইনডোর, আউটডোর সেবায় নেই পর্যাপ্ত লোকবল।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদ হাসান বলেন, চিকিৎসকসহ জনবলসংকট নিয়েই চলছে নিয়মিত কার্যক্রম। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন শত শত মানুষ। ওষুধসংকট রয়েছে এখানে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাব। খাবারের মান ভালো করার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। সুইপারসংকটে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে একটু সমস্যা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী রাজিব মো. নাসের বলেন, লোকবলসংকটেও ভালো সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। জনবলসহ আরও কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।