নানা সমস্যায় জর্জরিত ১৫৪ বছরের প্রাচীন কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশন। ব্যস্ততম স্টেশনটিতে প্ল্যাটফরমের উচ্চতা কম, ট্রেনের চেয়ে দৈর্ঘ্যও কম। এতে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। হুড়োহুড়ি করে ওঠানামা করতে গিয়ে হাত-পা ভেঙেছে অনেকের। পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে অনেককেই। বিশেষত, শিশু ও নারীরা প্রায়ই ট্রেন থেকে ওঠানামা করতে গিয়ে আহত হন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও আশপাশ এলাকার শত শত ট্রেনযাত্রী প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে চলাচল করেন। পদ্মা সেতু হওয়ার পর বহুগুণে ব্যস্ততা বেড়েছে স্টেশনটির। নেই পর্যাপ্ত এবং ভালো পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। বিশ্রামাগার ব্যবহারের অনুপযোগী, সব সময় তালা মেরে রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি কুষ্টিয়া থেকে পদ্মার পাড়ে নদীবন্দর গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত ৭৫ কিমি দীর্ঘ রেললাইন উদ্বোধন করা হয়। সে সময় কুষ্টিয়া থেকে গোয়ালন্দ ঘাট লাইনের স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু হয় কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের। পদ্মা সেতু হওয়ার পর বহুগুণে ব্যস্ততা বেড়েছে এ স্টেশনটির। লোক সমাগম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে এ স্টেশনই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্টেশনটিতে পা দিয়েই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রী সাধারণকে। এ স্টেশনের নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, আশপাশের জেলাগুলোতে রেলস্টেশন অনেক উন্নত। কিন্তু যুগের সঙ্গে তালমেলাতে পারছে না দেড় শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এ স্টেশন। স্টেশনের পাশের একজন চা দোকানি বলেন, প্রায়ই শিশু ও নারীরা ট্রেন থেকে ওঠানামা করতে গিয়ে আহত হন। আহত ও স্বজনদের আর্তনাদও শুনতে হয় তাকে। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় আসা জাহাঙ্গীর বলেন, প্ল্যাটফরম অনেক নিচু হওয়ায় পরিবার নিয়ে এ স্টেশনে নামা খুবই কষ্টকর। বাচ্চাকে নামাব, নাকি স্ত্রীকে হাত ধরে সহায়তা করব? তা ছাড়া স্টেশনে নামার জন্য সময়ও কম পাওয়া যায়। হুড়োহুড়ি করে নামতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। যাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিশ্রামাগার ব্যবহারের অনুপযোগী। সব সময় তালা মেরে রাখা হয়। ফলে স্টেশনে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় থাকে না। নেই পর্যাপ্ত এবং ভালো পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। সেখানকার কর্মীরা বলেন, প্রায়ই ট্রেনে কেটে আহত হয়ে আসেন যাত্রীরা। অনেক সময় আঘাত এতই গুরুতর হয়, চিকিৎসাও দেওয়া সম্ভব হয় না।
ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজবাড়ীর সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, প্ল্যাটফরমের দৈর্ঘ্য ছোট, উচ্চতাও কম। যাত্রীদের ওঠানামা করতে খুব কষ্ট হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে তিনি বলেন, প্ল্যাটফরমটি বর্ধিতকরণ ও উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য টেন্ডার হয়েছে। স্টেশন ভবনেরও প্রাক্কলন হয়েছে। টেন্ডারের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানিয়েছি।