নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি। প্রথম প্যাকেজে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে পাঁচবার। এরপর বদলেছে নকশা ও ঠিকাদারও। ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এবার দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাকি কাজের মেয়াদ ষষ্ঠবারের মতো বাড়িয়ে করা হয়েছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এভাবে কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ নদীর ওপর দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষ। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।
নড়াইল সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, কালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ চলমান। দ্বিতীয় প্যাকেজে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইতোমধ্যে অবশিষ্ট কাজের ১৫ ভাগ সম্পন্ন করেছে। পরিবর্তিত নকশা অনুয়ায়ী বাকি কাজ হবে স্টিল স্ট্রাকচারে। স্টিল স্ট্রাকচারের মালামাল বিদেশ থেকে আমদানি করায় সময় আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ নবগঙ্গা নদীকে ‘সি’ গ্রেডের হিসেবে আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠায়। পরে তারা গ্রেড পরিবর্তন করে ‘বি’ গ্রেডের নদী হিসেবে প্রতিবেদন দেয়। ফলে সেতুর নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া সেতু নির্মাণে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল এবং মঈন উদ্দীন (বাশী) জেভি যৌথভাবে কাজ পায়। চুক্তিমূল্য ৬৫ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজারে ৬৫১.৮৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে মাত্র ২২ শতাংশ কাজ হয়। এরপর নতুন একটি পিলার সংযোজন করে নকশা পরিবর্তন করে দ্বিতীয় দফা মেয়াদ বাড়ে। ২০২১ সালে বালুবোঝাই বাল্কহেডের আঘাতে ৯ নম্বর পিলারটি ধসে পড়ে। এ সময় তৃতীয় দফা নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। চতুর্থবার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় বাধে নকশা জটিলতা। সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণ শেষে দেখা যায় নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। ৯ নম্বর পিলার বাদ দিয়ে ৮-১০ নম্বর পিলারের মাঝে ৯০ মিটারের স্টিলের স্প্যান বসিয়ে নতুন নকশা করে ডিপিপি করা হয়। এ নকশা পরিবর্তনে নতুনভাবে ব্যয় ধরা হয় ২৮ কোটি টাকা। মূল অংশের চারটি পায়ার ও তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৬১ কোটি টাকায় সড়ক বিভাগ প্রথম মেয়াদের চুক্তি শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। দ্বিতীয়বার কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতুর বাকি অংশ নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়। পঞ্চম মেয়াদে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাকি কাজের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।