নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার আমিনপুর এলাকায় ‘পানাম সিটি’র উত্তরে অবস্থিত টাঁকশালের বাড়ি, যা ‘ক্রোড়ি বাড়ি’ নামে পরিচিতি। বাড়িটির চার দিকে শ্যাওলা যুক্ত পুরনো চওড়া দেয়ালের সঙ্গে প্রবেশ পথে লাগানো হয়েছে নতুন গেট ও দেয়াল। গেটে লেখা রয়েছে ১৮০৫ সালের তৈরি। সেখানে প্রবেশ করতেই ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরের আদলে তৈরি দ্বিতল ছোট স্থাপনা। তার অদূরে পশ্চিম পাশে আরও একটি বড় আকৃতির দ্বিতল বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। তার দেয়ালের প্রতিটি জায়গায় শোভা পাচ্ছে ছোট ছোট গর্তের ন্যায় কুঠুরি। যেখানে এক সময় মুদ্রা বা মুদ্রাজাতীয় কিছু সংরক্ষণ করা হতো বলে অনুমেয়। অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সোনারগাঁ পৌরসভার আমিনপুরে অবস্থিত ৫০০ বছর আগের এ টাঁকশাল।
অভিযোগ উঠেছে, অসিম দাস গুপ্ত নামে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক চার একর ৮১ শতাংশ এ জমিটি ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরি করে দখলে রেখেছেন। যদিও অভিযুক্ত অসিম দাস গুপ্ত জমিটি তার পৈতৃক বলে দাবি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় না থাকায় বেহাল হয়ে যাচ্ছে ৫০০ বছরের পুরনো এ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি। ওই স্থাপনার পাশে রয়েছে সদ্য তৈরি আরও দুটি ঘর। একটি কাঠ ও টিনের তৈরি। সোনারগাঁ পানাম সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিয়াম চৌধুরী জানান, তিনি লোকমুখে শুনেছেন টাঁকশালের কথা। সম্প্রতি সেখানে গিয়েছেনও। তিনি জানান, কিছুদিন আগেও একটি ভবন দাঁড়িয়ে ছিল যা এখন নেই। তবে, যেহেতু ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নেই সেহেতু এ বিষয়ে তিনি আপাতত কিছুই বলতে পারছেন না। কোনো সভা হলে এটি অধিদপ্তরের আওতায় আনা যায় কি না তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।