অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামের মিয়াবাড়ি মসজিদ। বাহারি কারুকার্যমি ত এ মসজিদ কবে নির্মিত হয়েছে তা নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদটি মোগল আমলে নির্মিত হয়েছে। ৬০০ বছর আগে এটি নির্মিত হয়। তবে উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি ১৮ শতকে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত স্থান এ মসজিদ।
বরিশাল জাদুঘরের কাস্টডিয়ান আরিফ উর রহমান বলেন, নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্য কাঠামো অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে- এটি মোগল আমলের শেষ সময়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিলে সংস্কার করার সময় পাওয়া ইট থেকে এ ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা ইট পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, মসজিদটি মোগল আমলে তৈরি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী মসজিদটি ৬০০ বছরের পুরনো। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা মিয়ারা দুই ভাই। তাদের ১৪তম বংশধর এখন গ্রামে বসবাস করছেন।
বরিশাল নগরী থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটির পশ্চিম ও পূর্ব পাশে রয়েছে দুটি দিঘি। মাঝখানে ইট, চুন ও সুরকি দিয়ে তৈরি মসজিদটি ৭০ ফুট লম্বা, ৪০ ফুট চওড়া। তিনটি গম্বুজ, আটটি বড় ও ২০টি ছোট কারুকাজের মিনার রয়েছে। একতলা ছাদের ওপর মসজিদটি করা হয়েছে। নিচতলায় ৯টি কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলো এখন নুরানি মাদরাসা হিসেবে ব্যবহার হয়। খাড়া ১৬ ধাপের সিঁড়ি ডিঙিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে হয়। সিঁড়ির নিচে দুটি কবর রয়েছে। তবে সেগুলো কার তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। মসজিদটিতে একসঙ্গে ১৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন বলে জানান মসজিদের ইমাম। স্থানীয়দের তথ্যমতে, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদ হায়াৎ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তাকে প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কেড়ে নেওয়া হয় তার উমেদপুরের জমিদারি। ১৬ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে দুটি দিঘিসহ দৃষ্টিনন্দন দোতলা এ মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি। কথিত আছে, তাজমহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরদের দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।