প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করতেই ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়। ওই বছরটা ছিল বাংলাদেশের জন্য একটা ভয়াবহ বছর। সেই বছরের এপ্রিলেও একটা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ২০১৩ সালের পুরোটার চূড়ান্ত পরিণতি হলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন।
গতকাল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার আমলে হওয়া সব গুম-হত্যার বিচার করতে ইচ্ছুক অন্তর্বর্তী সরকার। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া গুম নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এটি করার জন্য সরকারকে সময় দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস গ্রুপগুলো বলে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৬০-৬১ জন মারা গেছে। আর হেফাজত বলে এখানে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে। কোনটা সত্য এটা জানার জন্য হেফাজতের উচিত নিজে রিসার্চ করে বলা, কত জন মারা গেছে, কারা কারা মারা গেছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের সময় ভয়াবহ একটা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আমি তখন সাংবাদিকতা করি। সারা দেশে আমি ১৩০-১৩২ জনের মৃত্যুর সংখ্যা গুনেছি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিএনপিপন্থি প্রচুর ছেলেকে গুম করা হয়। কেউ বলে ২৪ জন, কেউ বলে ১৮ জনকে উধাও করা হয়েছে। তাদের এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে একসঙ্গে এতগুলো মানুষ গুমের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘ক্ষমতা হারানোর ভয়েই আওয়ামী সরকার শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে অংশগ্রহণ করে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ও তানযিমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসা। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।