তিন তলাবিশিষ্ট তিনটি ভবন। প্রতিটিতে আছে ২০টি করে শয্যা। এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে আহত ও পঙ্গুদের চিকিৎসার জন্য। যেগুলো ট্রমা সেন্টার নামে পরিচিত। কিন্তু আদতেই কোনো কাজে লাগছে না। অর্থাৎ নেই সেবা কারণ জনবল ও চিকিৎসা উপকরণ নেই। ফলে চট্টগ্রামের তিনটি ট্রমা সেন্টার ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা ট্রমা সেন্টার রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। আহতরা পাচ্ছেন না চিকিৎসা। সরকার সড়ক-মহাসড়কের পাশে দুর্ঘটনায় আহত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সহিংসতায় আহত মানুষের দ্রুত চিকিৎসায় ট্রমা সেন্টারগুলো নির্মাণ করে। প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে আছে ১৮টি সাধারণ ও দুটি বিশেষ কেবিন। এসব সেন্টারের জন্য একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, তিনজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ছয়জন সার্জন, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ ৩৬টি পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তবে নিয়োগ হয়নি।
জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার কাচারি সড়কে প্রায় ১২ কোটি ব্যয়ে নির্মিত ‘হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার’ ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর চার বছর পার হলেও নেই জনবল ও চিকিৎসা উপকরণ। এখনো সেখানে কোনো সেবাই চালু করা হয়নি। ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে সেবার জন্য নির্মাণ করা সেন্টারটি। হাটহাজারী উপজেলার কাটির হাটের স্থানীয় বাসিন্দা মঈনুদ্দিন বলেন, একদিন রিকশাকে বাস ধাক্কা দিলে আমি ছিটকে পড়ে হাত-পায়ে আঘাত পাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তারা আমাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু এখানকার ট্রমা সেন্টারটি যদি চালু থাকত কষ্ট করে অত দূরে যেতে হতো না।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় ২০১৩ সালে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার’ নির্মাণ করা হয়। তিন তলা ভবনের হাসপাতালেও আছে ২০টি শয্যা। কিন্তু নেই সেবা। নিয়োগ দেওয়া হয়নি জনবল। হাসপাতাল ভবনে আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছে, আছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। তবে ব্যবহার না হওয়ায় মালামালগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ভবন নির্মাণের পরপরই চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তবে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ হাসপাতালে দৈনিক অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন বিভিন্ন ধরনের রোগী আসেন। তা ছাড়া, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঢালারমুখ এলাকায় ২০১৩ সালের ১৭ অক্টোবর ১১ কোটি ৯১ লাখ টাকায় একটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়। ট্রমা সেন্টারে আছে ২০টি শয্যা। কিন্তু ভবন থাকলেও নেই সেবা।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু এটির এখনো অর্থনৈতিক কোড দেওয়া হয়নি। এ কারণে জনবল ও চিকিৎসা উপকরণ পাওয়া যায়নি। আর বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। গতকালও একটা চিঠি পাঠিয়েছি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্মাণ করা হলেও তিনটি ট্রমা সেন্টারে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে ট্রমা সেন্টারগুলো চালু করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিতই যোগাযোগ চলছে। ট্রমা সেন্টারগুলো চালু করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।