সবকিছুকে ছাপিয়ে চিরায়ত সাহিত্যের বইগুলো পাঠকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল একুশে বইমেলা সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি। পাঠকের চাহিদা থাকায় প্রকাশকরাও জনপ্রিয় এসব লেখকের চিরায়ত বইগুলোর নতুন সংস্করণ এনেছেন এবারের মেলায়ও। মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে চিরায়ত নন-ফিকশনধর্মী বইয়ের বিপুল সমাহার লক্ষ্য করা গেছে।
জোনাকী প্রকাশনী এনেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষণিকা’, ‘যোগাযোগ’, ‘চোখের বালি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘উপন্যাস সমগ্র’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘একা এবং কয়েকজন’, তারা শঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘কবি’, ‘গণদেবতা’, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’, ‘পথের পাঁচালী’, সমরেশ মজুমদারের ‘প্রিয় আমার’, ‘স্বপ্নের বাজার’, ঐতিহ্য এনেছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘শকুন্তলা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘সাম্য’, শরৎচন্দ্রের ‘চরিত্রহীন’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ ইত্যাদি, বাঁধন পাবলিকেশন্স এনেছে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘আরণ্যক’ আহমদ ছফার ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ ইত্যাদি।
চিরায়ত বই প্রকাশে কপিরাইটের প্রয়োজন হয় কি না এমন প্রশ্নে জোনাকী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে কোনো কপিরাইটের প্রয়োজন হয় না। প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, চিরায়ত বই চির নবীনের মতোই। কেবল মেলা নয়, এসব বই সারা বছরই চলে।
বিকালে মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী মারিয়ামের সফঙ্গ। বাঁধন প্রকাশনী থেকে আহমদ ছফার ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটি কিনেছিলেন এই তরুণী। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের এই বয়সে আহমদ ছফার বই কেনা প্রসঙ্গে এই শিক্ষার্থী বলেন, চিরায়ত সাহিত্য পড়লে অন্তত কিছু জানা যায়। ফেসবুক সেলেব্রিটিদের উদ্ভট টাইপের কুরুচিপূর্ণ বইগুলো আমার ভালো লাগে না। জ্ঞান অর্জনের জন্য যেহেতু বই। অতএব, জ্ঞান অর্জন করতে হলে ভালো মানের বই-ই পড়তে হবে বলে আমি মনে করি।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানায় গতকাল অমর একুশে বইমেলার ১৭তম দিনে নতুন বই প্রকাশ এসেছে ১১৩টি। আর গত ১৭ দিনে মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৪টি।
মূল মঞ্চ : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আল মাহমুদ : জীবন ও কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মজিদ মাহমুদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুসা আল হাফিজ এবং কাজী নাসির মামুন। সভাপতিত্ব করেন মাহবুব সাদিক।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’ ও ‘শিল্প বাংলা’। একক সংগীত পরিবেশন করেন এ টি এম আশরাফ হোসেন, ওয়াদুর রহমান রাহুল, সোমা সরকার, নিপা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন লাভলী, মাসুদুল হক, মো. আলী হোসাইন, মমতা দাসী এবং মোখলেসুর রহমান মিন্টু।
সোহেল হাসান গালিবের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন : এদিকে, বিতর্কিত কবি সোহেল হাসান গালিবের মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকালে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেখক বলছি মঞ্চের সামনে মানববন্ধন করেন লেখকরা।
মানববন্ধনে অংশ নেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। জুয়েল মজহার, রাজু আলাউদ্দিন, চঞ্চল আশরাফ, দিলাওয়ার হাসান, আদর্শের প্রকাশক মাহবুব রাহমান, শিমুল সালাহ্উদ্দিন, এহসান মাহমুদ, অলাত এহসান, জব্বার আল নাঈম প্রমুখ।