সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়া চার আসামি গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ে খালাস পান। হাই কোর্টের সেই আদেশের কপি ১১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। আদেশের কপি পেয়েও তাদের মুক্তি দিতে দেরি করেন জেলসুপার রত্না রায়। ফলে কারা ফটকে বিপুল জনসমাগম ঘটে। এ নিয়ে সেখানে জটলা তৈরি হয়।
মুক্তি পাওয়া চার নেতা হলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান (বাবলু) ও সাবেক সভাপতি এ কে এম আখতারুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান শাহীন। তারা পাঁচ বছর সাত মাস ওই কারাগারের ফাঁসির সেলে বন্দি ছিলেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর চারজনকে মুক্তি দিতে দেরি হওয়ায় রত্না রায়কে শোকজ করা হয়েছে। ডিআইজি (প্রিজন) কামাল হোসেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি রত্না রায়কে শোকজ করেন।
শোকজের জবাব আগামী তিন কর্মদিবসে দিতে বলা হয়েছে। আজ রবিবার সেই জবাব পাওয়ার কথা ডিআইজি প্রিজনের। শোকজে বলা হয়েছে, ডিআইজি (প্রিজন) ট্রেইনি ডেপুটি জেলারদের ক্লাস শেষ করে কার্যালয়ে ফেরার পথে ১০০০-১২০০ জন বহিরাগতকে দেখতে পান। তারা আরপি গেটের সামনে মিছিল ও স্লোগান দিতে দিতে কারাগারের প্রধান ফটকের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এতে করে কারাফটক ও অস্ত্রাগার অরক্ষিত হয়ে পড়ে। জেলসুপার, জেলার বা ডেপুটি জেলার কেউ লোকজন আটকানোর চেষ্টা করেননি। এতে দায়িত্ব পালনকারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি বলে প্রতীয়মান হয়।
শোকজে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া বন্দির খালাস পাওয়ার বিষয়টি ডিআইজি (প্রিজন) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আপনি (রত্না রায়) তা না করে নিজ খেয়াল-খুশি মতো বন্দিকে খালাস দিতে অযথা বিলম্ব করেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে জেল সুপার রত্না রায়ের সঙ্গে চেষ্টা করলেও তিনি দেখা করেননি। মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ডিআইজি (প্রিজন) কামাল হোসেন জানান, চারজন বন্দির মুক্তির আদেশ পাওয়ার পরও ছেড়ে দিতে অযথা বিলম্বের কারণে কারাগারের অস্ত্রাগার ও অন্য বন্দিরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছিল। জেলসুপার এর দায় এড়াতে পারেন না। শোকজের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হবে।