গাজীপুরের টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরে গতকাল বাদ আসর পাকিস্তানের জিম্মাদার মাওলানা হারুনের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নিজামউদ্দিন মারকাজ অনুসারীদের দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন। এর আগে জোহরের নামাজের পর কাকরাইল মসজিদের বর্ষীয়ান মুরুব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসেন স্বাগতিক বয়ান রাখেন। বাদ মাগরিব বয়ান করেন মাওলানা ইয়াকুব সিলানী (নিজামউদ্দিন)। তর্জমা করেন- মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। এ পর্বে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা ৮৫ খিত্তায় অবস্থান করছেন। আগামী রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার উভয় পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিচ্ছেন সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং : গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, ময়দানে আগত দেশিবিদেশি মুসল্লিদের সেবায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। আগত মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে প্রায় সাত হাজার পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া সাদা পোশাকেও থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য। ময়দানের আশপাশ এলাকার সড়ক-মহাসড়ক মুসল্লিদের চলাচলের জন্য সচল থাকবে।
হকার ও ভিক্ষুক যাতে মুসল্লিদের চলাচলে বিঘ্নের সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। যানজট এড়াতে সড়ক-মহাসড়কে হকারদের বসতে দেওয়া যাবে না। গাড়ি পার্কিং হিসেবে টঙ্গীর ডেসটেনি মাঠ, টিএন্ডটি মাঠ ও গাজীপুর বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ ব্যবহার করতে হবে। এবার সড়ক ও মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকবে না।
গতকাল দুপুরে ময়দানে অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোলরুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্বের ন্যায় এবারও মুসল্লিদের সেবায় আমাদের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ময়দান পর্যবেক্ষণ, মোবাইল ডিউটি, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ময়দান নজরদারিসহ সব ধরনের সেবা থাকবে। এ ছাড়া এ পর্বেও কোনো ড্রোন উড়ানো যাবে না, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ ড্রোন উড়াতে চাইলে পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নিতে হবে। পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের পূর্বে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর সভাপতিত্বে এক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে যার যার দায়িত্ব যথাযথ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) এন এম নাসিরুদ্দিন, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) মো. ইব্রাহিম হোসেন খান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।