দেশের চা বাগানগুলোয় ২০২৩ সালে রেকর্ড চা উৎপাদনের পর ২০২৪ সালে উৎপাদনে ধস নেমেছে। শুধু তাই নয়, উল্টো আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে ৯.৬ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কমেছে ১৩.৮৫ শতাংশ। চলতি বছর আগের বছরের চেয়ে ৫০ লাখ কেজি কমিয়ে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, উত্তরাঞ্চলের চায়ের মান বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) বাগানগুলোয় কিছু সময় উৎপাদন বন্ধ থাকা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার অন্যতম কারণ। এবার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হলেও মানসম্পন্ন চা উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্র বলছেন, ২০২৩ সালে দেশের চা উৎপাদনের ইতিহাসে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদনের পর ২০২৪ সালে ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশের ১৬৮ বাগানে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার কেজি বা ১৩.৮৫ শতাংশ কম। আগের বছরের উৎপাদনের তুলনায় ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার কেজি বা ৯.৬ শতাংশ কম।
এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১ লাখ ৭৫ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ৪২ হাজার, মার্চে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার, এপ্রিলে ৪৮ লাখ ৮২ হাজার, মে মাসে ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার, জুনে ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার, জুলাইয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার, আগস্টে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার, সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার, অক্টোবরে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার, নভেম্বরে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার এবং ডিসেম্বরে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) যুগ্মসচিব ড. পীযূষ দত্ত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে আমরা মূলত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছি। প্রথমত. শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে এনটিসির বাগানগুলো বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। ফলে ওই বাগানগুলো থেকে আশানুরূপ চা পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত. আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে ছিল না। তৃতীয়ত. উত্তরবঙ্গের বাগানগুলোর চায়ের মান বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে গিয়ে উৎপাদন কিছুটা কমে গেছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা, শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ না করাসহ নানা কারণে গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে এনটিসির নিয়ন্ত্রণাধীন ১৬ চা বাগানের ১৭ হাজার শ্রমিকের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এ সময় সিলেট অঞ্চলের ১২ বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন। এতে ওইসব বাগানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংকট নিরসন হলেও ওইসব বাগান থেকে লক্ষ্য অনুযায়ী চা পাওয়া যায়নি; যা মোট উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভূমিকা রেখেছে।