এক দিন পরই বসন্তবরণ, সঙ্গে ভালোবাসা দিবস। এক সপ্তাহ পর ২১ ফেব্রুয়ারি। এই দিবসগুলোর মূল গতিই ফুল। তাই রংপুরে ফুলের পসরা নিয়ে বসেছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিকিকিনি নিয়ে নাওয়াখাওয়ারও ফুরসত কম। তাই তো ফুলের যত্ন-আত্তিরও শেষ নেই। অনেক ব্যবসায়ী ফুলে ক্যাপ পরিয়ে রেখেছেন। বিক্রির ২-৩ দিন আগে ক্যাপ খুলে তা বিক্রি করবেন। গত দুই দিন নগরীর চিড়িয়াখানা সড়কে ফুল বিক্রির মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা। ফুল ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরী ও আশপাশ এলাকায় শতাধিক ফুলের বাণিজ্যিক বাগান রয়েছে। ৬০-৭০ একর জমিতে এসব ফুলের বাগান গড়ে উঠেছে। নগরীতে ফুলের ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। তবে বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে ফুল ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ে। নানা অনুষ্ঠান ও বিয়েশাদি উপলক্ষে সারা বছরই ফুল বিক্রি হলেও বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের বিক্রি বাড়ে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ২০ গুণ বেশি।
জানা গেছে, সারা বছর টুকটাক করে ফুলের ব্যবসা চললেও ব্যবসা জমজমাট হয় পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে। রংপুরে ফুলের চাহিদা আগে থেকেই বেশি। তবে এখন সর্বত্রই ফুলের কদর আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, কসমস, ডালিয়া, টিউলিপ, কালো গোলাপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুলের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন।
ফুল ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে প্রতিটি গোলাপ মান ভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হবে। রংপুরের ফুল ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও পাঠানো হয়। আবার যশোর থেকে রংপুরে ফুল আসে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে পাইকার, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ফুল নিয়ে বাড়তি বিক্রি ও বাড়তি আয়ের জন্য ব্যস্ত রয়েছেন।
গোলাপের ক্যাপ পরানো প্রসঙ্গে কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, ব্যবসায়ীরা ফুলের বাইরের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বাজারজাত করে থাকেন। এতে ফুলের আকার ছোট হয়ে যায় ও সংরক্ষণকাল কমে যায়। গোলাপ ফুলের কলিতে ক্যাপ পরানো একটি লাগসই ও লাভজনক প্রযুক্তি। এগুলোকে এক প্রকার বাড নেট বলা হয়। এগুলো দেখতে অনেকটা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফলের বাইরে থাকা জালিকার মতো। আকারে এগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১২ সেমি হয়ে থাকে। বাজারে বিভিন্ন রংয়ের ক্যাপ পাওয়া যায়। সাধারণত গোলাপের কুঁড়ি বের হওয়ার পর ক্যাপটি ওই কুঁড়িতে পরিয়ে দিতে হয়। রোজ ক্যাপ ফুলের কলি ও ফুলকে ঢেকে রাখে। ফলে গোলাপ কুঁড়িটি সুরক্ষিত থাকে এবং কুঁড়িটি পোকামাকড়ের উপদ্রব, রোগবালাই ও প্রাকৃতিক সব ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।