সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিস্ট দল ছিল, তার প্রমাণ সাগর-রুনি হত্যার বিচার না করা এবং কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের নাম প্রকাশ না করা। পাশাপাশি তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ ২ মার্চ। ওই তারিখেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া না হলে একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হবে। ওই কমিটির মাধ্যমে রাজপথে আন্দোলনে নামবেন সাংবাদিকরা।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সমাবেশে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকান্ডে র বিচার হতে হবে। কারা এ হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল তা জনসম্মুখে এনে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। সাংবাদিক হত্যাকান্ডে র বিচার না করার পেছনে যারা দায়ী, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মত দেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কেন সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, এ প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, ২ মার্চের পরও সময়ক্ষেপণ করা হলে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেবেন।
ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, কারও বেডরুমে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের নয়, সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেওয়ার পর বোঝা গেছে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়া যাবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ হত্যার বিচার হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, তদন্তের দায়িত্ব যাদের হাতে ছিল, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক নেতা মনোয়ারুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, খুরশীদ আলম, গাজী আনোয়ার, এম এম বাদশা, আবদুল হাই তুহিন প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব এ এম এম আনিসুল আউয়াল।