পাট নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের পরও আলোর মুখ দেখছে না পাট ও পাটজাত পণ্য। পাটপণ্যের বৈচিত্র্যের জন্য সরকার নানান সময়ে নানান রকম ঘোষণা দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়েছে খুব কম। দীর্ঘদিন ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বরং দিন দিন পাট রপ্তানি কমছে। এর মধ্যে বেড়েছে শুধুই পাটের বস্তা ও ব্যাগের রপ্তানি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয় ৭৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার কিন্তু ২০২৫ সালে একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার কমে হয়েছে ৬৬ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাট নিয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। পাটপণ্যের রপ্তানিকারকরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পাটপণ্যের চাহিদা রয়েছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার জন্য সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। যদিও বিশ্বমানের পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পাটের উৎপাদন থেকে শুরু করে পাটপণ্য নিয়ে গবেষণা, নকশার উন্নয়ন, বিপণনসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলেই পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়বে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৫৫ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। তার মধ্যে ১৬১ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলারের কাঁচা পাট। পাটপণ্যের মধ্যে ছিল ৪৯২ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলারের পাটের সুতা, ১০৬ দশমিক ২৯ মিলিয়ন কোটি ডলারের পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয়।
এ ছাড়া অন্যান্য পাটের পণ্য রপ্তানি হয় ৯৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাঁচা পাট রপ্তানি হয় ১৩ দশমিক ৯০ মিলয়ন ডলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাঁচা পাট রপ্তানি হয় ৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ কাঁচা পাট রপ্তানি কমেছে ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কাঁচা পাট রপ্তানি হয় ৯০ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয় ৯০ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাটের সুতা রপ্তানি হয় ৪৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাটের সুতা রপ্তানি রপ্তানি হয় ৩৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ পাটের সুতা রপ্তানি কমেছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাটের সুতা রপ্তানি হয় ৩১০ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয় ২৭০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কমেছে ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয় ৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাঁচা পাট রপ্তানি হয় ১০ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি ৪৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয় ৬৫ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয় ৭২ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বেড়েছে ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। পাট রপ্তানি কমার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হঠাৎ করে কমার বিষয়ে মতামত দেওয়া যাবে না।