খুলনা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়ার দরিদ্র পরিবারের সদস্য রোকেয়া বেগম। ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের পরিবার পরিচিতি কার্ড (ফ্যামিলি কার্ড নম্বর ৫০) দিয়ে এতদিন টিসিবি পণ্য তুলেছেন। কিন্তু ওই কার্ডে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বর না থাকায় ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ হাতে পাননি। ফলে বর্তমানে টিসিবির পণ্য তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। রোকেয়া বেগম জানান, অভাবের সংসারে স্বামীর একটি মাত্র মোবাইল ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর তা তার কাছে রয়েছে। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডে তার নাম থাকলেও মোবাইল সিমের রেজিস্ট্রেশন স্বামীর নামে হওয়ায় তাকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি। এখন নিজের নামে একটি মোবাইল সিম কিনে সংশোধনের চেষ্টা করলেও কেউ কাগজপত্র জমা নিচ্ছেন না। রোকেয়া বেগমের মতো খুলনা নগরীতে অসংখ্য দরিদ্র পরিবার একই ধরনের জটিলতায় পড়েছেন। কারও মায়ের কার্ডে ছেলের মোবাইল নম্বর, স্ত্রীর কার্ডে স্বামীর মোবাইল নম্বর কিংবা ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ভুল থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর খুলনায় টিসিবি কার্ড যাচাইবাছাই শুরু হয়। এতে ধনাঢ্য পরিবারে কার্ড বিতরণ, এক পরিবারে একাধিক সদস্যকে কার্ড ও ভোট ব্যাংক তৈরির জন্য নিয়মবহির্ভূত কার্ড প্রদানের প্রমাণ মেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিনিধিরা জানান, খুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার কার্ড থাকলেও প্রথম দফায় যাচাইবাচাই শেষে ৫০ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত করা হয়। যাদের চলতি মাসেই স্বল্পমূল্যে নির্দিষ্ট পণ্য বিতরণ করা হয়।
টিসিবির যুগ্ম পরিচালক ও খুলনা অফিস প্রধান মো. আনিসুর রহমান বলেন, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৫০ হাজার পরিবারকে টিসিবির মালামাল দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি আরও ৩৫ হাজার কার্ড যাচাইবাছাই চলছে। যাদের কার্ডে ভুল আছে তা সংশোধনীর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এর পর এটি গৃহীত হলে তাকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও টিসিবি পণ্য দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তথ্যগত অমিলসহ চিহ্নিত সমস্যাগুলো বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে জটিলতার অবসানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।