স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পোড়া তেল ব্যবহার নিরুৎসাহ করতে ও ভোক্তাদের নিরাপদ রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। দিনের পোড়ানো তেল সংগ্রহ করে সেগুলো পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। সেই তেল থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োডিজেল ও গ্লিসারিন। প্রতিদিন গড়ে হাজার লিটার পোড়া তেল সংগ্রহ হচ্ছে রাজশাহীর বাজার থেকে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের এটুআই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর রেস্তোরাঁগুলো থেকে দিনের পোড়ানো তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ৯০৫.৪ লিটার, নভেম্বরে ৯৫০.৩ লিটার, অক্টোবর মাসে ৯৯০.২ লিটার ও সেপ্টেম্বর মাসে ১৫০১.১ লিটার তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। ৫৫ টাকা লিটার দরে এসব তেল সংগ্রহ করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন জানান, মুয়েনজার নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর রেস্তোরাঁগুলো থেকে রান্নার পোড়ানো তেল সংগ্রহ করে। সেই তেল রিসাইকেলের মাধ্যমে তারা বায়োডিজেল তৈরি করছে। এ ছাড়া গ্লিসারিনও তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, রেস্তোরাঁগুলোতে সকাল থেকে যে তেলে ভাজাপোড়ার কাজ করা হয়, দিন শেষে সেগুলো একটি জারে জমা রাখেন। সেই জারও মুয়েনজার সরবরাহ করেছে। সেখান থেকে সপ্তাহ শেষে তারা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, অনেক দামি রেস্টুরেন্ট থেকে ফুটপাতে চলা রেস্টুরেন্ট বা খাবার দোকানগুলো কম দামে তেল কিনে নিয়ে ব্যবহার করে। সেটি বন্ধ করতেই তাদের এমন উদ্যোগ। রাজশাহীর বাজার থেকে পোড়া তেল সংগ্রহের আরও বাড়াতে তারা কাজ করছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, পোড়া তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একাধিকবার ব্যবহার করা তেল পরেরদিন যাতে ব্যবহার না হয়, এমন উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্যকে কিছুটা হলেও নিশ্চিত করবে। রেস্তোরাঁগুলো যাতে বেশি পোড়ানো তেল ব্যবহার না করে, সেটি আরও বেশি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।