ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগে বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সারহান নাসের তন্ময় ও মীর শওকাত আলী বাদশা এবং বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানসহ আওয়ামী লীগের ৩৫ নেতা-কর্মীর নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে জেলা শ্রমিক দল নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম মিঠু বাদী হয়ে বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় দ্রুত বিচার আইনে এ মামলা করেন। এ মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে আটক সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে গতকাল বিকালে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. মতিউর রহমান আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এরপর কড়া পুলিশ প্রহরায় বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু, সাধারণ সম্পাদক ভূইয়া হেমায়েত উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাগেরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র খান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
কারাগারে উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মজিবুর : নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। পরে সন্ধ্যায় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদ্যস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আজ (গতকাল) ট্রাইবুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তাকে বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।