‘তিস্তাবিষয়ক করণীয়’ শীর্ষক গণশুনানিতে রংপুরবাসীকে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা আশার বাণী শুনিয়েছেন। গতকাল বিকালে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলব্রিজ প্রাঙ্গণে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণশুনানি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। তিস্তাপাড়ের মানুষের মতামত ছাড়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে না। তিস্তা নদীর ৪৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটার এলাকা বেশি ভাঙনপ্রবণ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধ কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। গণশুনানিতে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ২০১১ সাল থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার একটি খসড়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ভারতকে যা দিয়েছি তা আজীবন মনে রাখবে। আওয়ামী সরকার ভারতে গিয়ে তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুধু ছবি তুলেছে, তিস্তা নিয়ে কোনো কথা বলার সাহস পায়নি। তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে অন্তর্বর্র্তী সরকার মাথা উঁচু করে কথা বলছে। প্রয়োজনে পানি আইনের ভিত্তিতে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম তারিকুল আলম, তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী প্রমুখ। গণশুনানিতে তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, বেশি ভাঙনপ্রবণ ২১ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, তিস্তার চরে স্কুল ও ক্লিনিক নির্মাণ, বেকারত্ব দূরীকরণে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, নদী ভাঙনে চলে যাওয়া জমির মালিকানা অটুট রাখা, পরিবেশ ঠিক রেখে কৃষি ভিত্তিক কলকারখানা তৈরি এবং চলতি বছরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়। শুনানিতে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তাপাড়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষসহ নানান বয়সের মানুষ অংশ নেন।