হেলমেট না থাকলে তেল দেবে না পেট্রলপাম্প। ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ গত বছরের মে মাসে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এমন নির্দেশনা জারি করে। ফিলিং স্টেশনগুলো প্রথম দিকে কিছুদিন এ নির্দেশনা মানলেও এখন আর কোনো তোয়াক্কা করছে না। এখন তো হেলমেট ছাড়া রাস্তায় দেদার মোটরসাইকেল চলছে। এজন্য ক্রমে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা। জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৪ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
সড়কে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় মোটরসাইকেল চালকরা ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ির কারণে কিছুটা হেলমেট ব্যবহার করলেও মহাসড়কে চালকদের হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা যায় কমই। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে দুজন আরোহী থাকলে চালকের হেলমেট থাকলেও যাত্রীর মাথায় দেখা যায় না বললেই চলে। আবার ব্যতিক্রমী এক চিত্রও দেখা যায়। দুই সিটের মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন একই পরিবারের তিন-চার জন। সামনে সন্তান, পেছনে স্ত্রী ও আরেক সন্তান! এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায়, চালকের মাথায় হেলমেট, স্ত্রী ও সন্তানের মাথায় হেলমেট নেই। রাজধানীর সব ফিলিং স্টেশনেই দেখা যায় হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের তেল-ফুয়েল দেওয়া হচ্ছে। অথচ গত বছরের ২০ মে থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে দেওয়া নির্দেশনা ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ এখনো জারি আছে। প্রথম দিকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নামে পুলিশ, বিআরটিএ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সে কারণে কিছুদিন এ নির্দেশনা কার্যকর ছিল, কিন্তু পরে তদারকির অভাবে যেন বন্ধই হয়ে যায়!
নিউমার্কেটে মেসার্স পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনে কথা হয় তেল দেওয়া এক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল নির্দেশনা শুরুতে কিছুদিন মানা হয়েছিল। এখন কেউ তদারকি করছে না। তাই মানাও হচ্ছে না। যে আসছে তাকেই তেল দিচ্ছি।’ এ বিষয়ে বিআরটিএর মুখপাত্র ও পরিচালক প্রশাসন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিআরটিএ থেকে মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য প্রচার চালিয়েছি। একই সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেন ফিলিং স্টেশনগুলো হেলমেট ছাড়া তেল বিক্রি না করে। কিন্তু হেলমেট ছাড়া তেল কেন বিক্রি করছে, সেটা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। তবে এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে।’
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি : সারা দেশে দ্রুত চলাচলের মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেল জনপ্রিয় হলেও এ বাহনে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্যানুসারে, জানুয়ারিতে বরাবরের মতো সড়ক দুর্ঘটনার শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল। ২৭৯ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৬৪ জন নিহত হয়েছেন; যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ।