পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাাসিয়েশন নেতার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ডাকা পেট্রলপাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঢাকায় জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পর থেকে পুনরায় পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি শুরু হয়। এর আগে গতকাল সকাল থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এ ধর্মঘট শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। এতে বিভিন্ন জায়গায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা।
গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে আদমদীঘি উপজেলায় অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মালিকানাধীন আনিকা পেট্রোলপাম্পের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে পেট্রলপাম্প ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে গত ২৪ জানুয়ারি সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি মহাসড়কসংলগ্ন পেট্রোল পাম্পের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় নেতারা জানান, যেসব পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে সেগুলো বহুল প্রচারিত দৈনিক না হওয়ায় বিষয়টি তারা জানতেন না। এ বিষয়ে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে আসা যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক বিভাগের জায়গা পেট্রোল পাম্পগুলো ইজারা নিয়ে থাকে। কিন্তু বগুড়ার আদমদীঘিতে আনিকা পেট্রোল পাম্প সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সেই স্থাপনা উচ্ছেদ করায় তারা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট আহ্বান করে।
এদিকে, পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে পেট্রোল পাম্প মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আনিকা পেট্রোল পাম্প ছাড়াও আদমদীঘিতে আরও একটি পাম্পের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। লিজ কমানোর ব্যাপারে জ্বালানি উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন। এর পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে পাম্পে তেল বিক্রি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
অপরদিকে, পেট্রোল পাম্পগুলো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েন যানবাহন চালক ও মালিকরা। এ কর্মসূচিতে বিশেষ করে বাইক, কার, মাইক্রোবাস ও বাসচালক এবং মালিকরা হতাশা ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েস মোটরসাইকেল আরোহীরা। তেল বিক্রি বন্ধ রাখায় অনেকেই পাম্প কর্মচারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।