আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মুকিব মিয়াকে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেকৃবি ক্যাম্পাস। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইলিয়াসুর রহমানের বাসা থেকে মুকিব মিয়াকে আটক করে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ডিবি।
পরে রাত ১০টায় আশ্রয় দানকারী ইলিয়াসুর রহমানসহ অন্যান্য আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে আলাদা আলাদা মিছিল করেন শেকৃবি ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদলের মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করে। এ সময় উপাচার্যের কাছে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্রদের বিচার দাবি করেন তারা।
মিছিল শেষে শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি তাপস কবির বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অবস্থানরত আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচার না হওয়ায় তারা এখনো বুক ফুলিয়ে আওয়ামী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শুধু তাই নয়, বাইরে থেকে আসা অন্যান্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে শেকৃবির শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসা।
ছাত্রদলের মিছিলের পরই মিছিল শুরু করেন শেকৃবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
মিছিল শেষে শেকৃবি প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানান তারা। দাবিগুলো হচ্ছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসা বাতিল ও প্রত্যাহার, জুলাই অভ্যুত্থানে বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি এবং তিন দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ।
মিছিল শেষে শেকৃবি সমন্বয়ক ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কৃষি ও পরিবেশ সেলের সম্পাদক মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, ‘তদন্তের নামে বর্তমান প্রশাসন প্রহসন করছেন। ৬-৭ মাস পার হলেও এখনো বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি তারা। ক্যাম্পাসে আওয়ামীদের পদচারণাই আমরা নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছি।
উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল লতিফ বলেন, আমরা দ্রুত সময়ে বিচারকাজ শেষ করব। আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, সিন্ডিকেট মিটিংয়ের অপেক্ষায় আছে।