রাজধানীর সন্নিকটে কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে চলছে প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। গতকাল বাদ জোহর পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হকের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমার কার্যক্রম। আগমীকাল সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের উভয় ধাপ। মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের আহমদ। গতকাল বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট। দ্বিতীয় ধাপে ২২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। দ্বিতীয় ধাপেও আগত দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা পালনের কথা রয়েছে।
নিরাপত্তার কমতি নেই দ্বিতীয় ধাপেও : গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপেও ময়দানে আগত দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তার কমতি থাকবে না। মুসল্লিদের সেবায় আমরা ১৬টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাইনুকুলার দিয়ে ময়দান ও আশপাশের এলাকায় জনগণের গতিবিধি লক্ষ করছি। মোবাইল ডিউটি ও চেকপোস্ট ডিউটির মাধ্যমে আমরা জনগণকে চেক করছি এবং নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া ৩৩৫টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ময়দানে পোশাকে কাজ করছে না কেউ, মাঠের ভিতরে সাদা পোশাকে কাজ করছে পুলিশ। মুসল্লিদের সঙ্গে মিশে কাজ করছে এবং নিরাপত্তা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত রবিবার প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাত চলাকালে একটি ড্রোন বেলুনের সঙ্গে লেগে ফুটে যায়, এতে বিকট শব্দ হয়। এটি একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, সে বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইজতেমা ময়দানের দুই কিলোমিটার এলাকায় জিএমপির অনুমতি ছাড়া কেউ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না। কেউ ড্রোন উড়াতে চাইলে পুলিশ কমিশনারের অনুমতি লাগবে। গতকাল বেলা ১১টায় ময়দানে অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) এন এম নাসিরুদ্দিন, উপপুলিশ কমিশনার বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) মো: আলমগীর হোসেন, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) মো. ইব্রাহিম হোসেন খান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) হাফিজুল ইসলাম, সহকারী উপপুলিশ কমিশানর (টঙ্গী জোন) মেহেদী হাসান প্রমুখ।
বয়ানে যা বলা হয়েছে : দুনিয়ার রাজত্ব ছোট, সম্পদ ছোট, সব কিছুই ছোট। আল্লাহ তা’আলাই বড়। তাঁর হুকুম বড়, তাঁর দেওয়া নেয়াতম বড়। আরও বলেন, আখেরাতের জন্য মেহনত করা দরকার। দুনিয়ার মেহনতের চেয়ে আখেরাতের জন্য মেহনত করা অনেক দামি।
টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ি নিজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, এ পর্বও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে।