মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে সম্প্রতি অধ্যাপক মো. এহতেসাম উল হককে পদায়ন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের, শিক্ষা প্রশাসনে চলছে তুলকালাম। বুধবারের (আগামীকাল) মধ্যে নতুন ডিজিকে সরিয়ে না দিলে বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছেন শিক্ষকনেতারা।
সূত্রে জানা গেছে, এ অধ্যাপক বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুগত ছিলেন। মাউশির নতুন এ ডিজি ৫ আগস্টের আগে বরিশালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতেও বিভিন্নভাবে কলেজে প্রভাব বিস্তার করেন। স্বৈরাচার পতনের পর তাঁর অপসারণের দাবিতে কলেজে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁকে অপসারণের জন্য শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে নভেম্বরে তাঁকে অধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে পটুয়াখালী কলেজে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক পদে পদায়ন করা হয়েছিল। মাউশিতে পূর্ণকালীন মহাপরিচালক না থাকায় বিভিন্ন অধ্যাপক এ পদে পদায়ন পেতে চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী ও জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে কাজ করা অধ্যাপককে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ এ পদে পদায়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকনেতারা।
বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষা সচিব আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি এ আওয়ামী লীগারকে ডিজি হিসেবে কৌশলে পদায়ন দিয়েছেন। আমরা শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবি করছি। আর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এ ডিজিকে বুধবারের মধ্যে পরিবর্তন করা না হলে বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবন ঘেরাও করা হবে।’ নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক এহতেসাম উল হক বলেন, ‘শিক্ষকদের অনৈতিক সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বরিশালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকরির সময় অপরাজনীতির শিকার হয়েছি, কয়েকজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিলে আমি পদত্যাগ করেছিলাম। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেছি মাত্র। আওয়ামী লীগের কোনো সুবিধা আমি কখনো নিইনি।’