খুলনার সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ অবস্থা আরও ভয়াবহ। এতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রত্যন্ত কয়রার বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া। চিকিৎসক তাকে সিটি স্ক্যানসহ বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করাতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালে দুটি সিটিস্ক্যান মেশিনের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট। বাকি একটিতে সিরিয়াল পেতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক থেকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়।
জানা যায়, সরকারি এ হাসপাতালে এন্ডোসকপি মেশিন, ক্লোনেসকপি মেশিন, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ওটি টেবিল নষ্ট অবস্থায় আছে। রিএজেন্ট (কিট) না থাকায় আর্টারিয়াল ব্লাড গ্যাস এনালাইজার, হরমোন টেস্ট বন্ধ রয়েছে। একইভাবে খুলনার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেবুলাইজার মেশিন, সাকার মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ওটি লাইট, অটোক্লেভ, অ্যানেসথেসিয়া মেশিন নষ্ট।
তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিনটি ১০ বছরের বেশি সময় অচল হয়ে আছে। এখানে প্রিন্টার নষ্ট থাকায় কাজে লাগছে না আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। প্যাথলজিক্যাল ল্যাব আছে কিন্তু মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করার মতো টেকনোলজিস্ট নেই। সিজার কার্যক্রমে অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দীর্ঘকাল পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হেসেন বলেন, ‘নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়। হাসপাতালভিত্তিক ‘টেকনিক্যাল কর্মচারী’ নিয়োগ হয় তাহলে তারা ঘুরে ঘুরে নষ্ট মেশিন মেরামত করতে পারবে।’
এদিকে, সরকারি হাসপাতালে মেশিনাদি নষ্ট থাকার সুযোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সিন্ডিকেট বাণিজ্য গড়ে তুলেছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিকগুলো। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতারণা করছে। এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মহাসিন আলী ফরাজী বলেন, জরুরিভিত্তিতে নষ্ট মেশিনগুলো মেরামতের জন্য বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্যাথলজিতে ‘ইভিনিং শিফট’ চালু করা হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে স্যাম্পল নেওয়া হয় এবং রাত ৯টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হয়।