পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাবন্দি বিডিআর সদস্যদের মুক্তিসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জাস্টিস ফর বিডিআর নামের একটি প্ল্যাটফরম। গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত দাবি তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার। তিনি বলেন, যারা কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। শহীদ, আহত ও কারাবন্দিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। এ সময় দাবি মেনে না নেওয়া হলে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ বিডিআর পরিবারকে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। বিডিআর পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা কোনো প্রকার ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে আসিনি।
অন্যায় বিচারকে আমরা প্রশ্ন করতে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে করা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
এর আগে ১৯ জানুয়ারিও এক সংবাদ সম্মেলনে বিডিআর সদস্যদের দ্রুত মুক্তির দাবিসহ ছয় দফা দাবি জানান তারা। সেদিন তারা দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
তবে সব দাবি মেনে না নেওয়ায় এদিন তারা নতুন করে ছয় দফা দাবি জানান।
দাবিগুলো হলো- ইতোমধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া কারাবন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের’ বিস্ফোরক মামলা বাতিল করা। পিলখানার ভিতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ‘ব্যতীত’ শব্দ এবং কার্যপরিধি ২ এর (ঙ) নম্বর ধারা বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাধীন তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত সর্বপ্রকার নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে মুক্তি দিতে হবে এবং পিলখানা হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ‘শহীদ’ হওয়া ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারাগারে মারা যাওয়া প্রত্যেক বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সব ‘শহীদের’ স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে এবং ‘শহীদ’ পরিবারের সর্বপ্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।