রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানো ১০ প্রবাসীকে অতি দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তাঁরা এ দাবি জানান। এ সময় স্বজনরা রাশিয়ায় এই কর্মীদের পাঠানো এজেন্সি ড্রিম হোম ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান এম এম আবুল হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে স্বজনরা বলেন, ওমরাহ পালনের কথা বলে আমাদের ভাইদের প্রথমে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। রাশিয়ায় তাদের কাজের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার কথা বলে যুদ্ধের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমাদের ভাইয়েরা সুস্থ-সবলভাবে আমাদের কাছে ফিরে আসুক। আর দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
মানববন্ধনে রাশিয়ায় গিয়ে আটকে পড়া প্রবাসী আমিনুলের স্ত্রী ঝুমু আক্তার বলেন, দালাল যখন আমার স্বামীকে পাঠান, তখন নিজের ভাইকেও পাঠিয়েছেন। তখন আমরা বিশ্বাস করছি যে তিনি যেহেতু তাঁর ভাইকে পাঠাচ্ছেন, তাহলে এখানে কোনো প্রতারণা হবে না। কিন্তু তিনি তাঁর ভাইকে পুরোপুরি নিরাপদে রেখে বাকি সবাইকে বিপদে ফেলেছেন। তাঁর ভাই এখন পুরোপুরি নিরাপদে রয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা তাঁদের ফেরত আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ আবেদন আমাদের প্রধান উপদেষ্টার কাছে, তিনি যেন আমার স্বামীসহ সব ভাইকে অতি দ্রুত ফেরত নিয়ে আসেন। স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা উল্লেখ করে ঝুমু আক্তার বলেন, ‘গত পরশু দিন যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, আমি চলে যাচ্ছি। আমি আর ফেরত আসব কি না, জানি না। তোমরা আমারে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করো। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।’
এর আগে একবার তিন দিনের জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেঁচে ফেরার পর দ্বিতীয় দিন বিশ্রামের পর আবার তাঁকে নিয়ে গেছে। তাঁদের এক মাসের ট্রেনিং করানো হয়েছে। যখন ট্রেনিং করানো হয়, তখন আমরা এজেন্সিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ট্রেনিং কেন করানো হচ্ছে। তখন তারা বলে যে রাশিয়া অনেক বড় দেশ। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুদ্ধ লেগে থাকে।