জুলাই শহীদদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ও গণহত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারসহ পাঁচ দাবিতে পদযাত্রা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
গতকাল বিকালে শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর মিছিল নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করে সংগঠনটি। পদযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষা ভবন মোড়ে গেলে আটকে দেয় পুলিশ। জানা যায়, সেখানে আগে থেকেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। এ ছাড়া, পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন, রাখা ছিল জলকামানও। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা মিছিল নিয়ে ব্যারিকেডের সামনে এলে পুলিশ তাদের আর সামনে যেতে দেয়নি। পরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা সেখানেই স্লোগান দিতে থাকেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বলেন, আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগ সরকার বেছে বেছে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পুলিশে নিয়োগ দিত। তারা জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের ভিডিও ফুটেজে চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এর পর হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঢাকায় যারা ছাত্র হত্যা করেছে তাদের চট্টগ্রামে ট্রান্সফার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবি জানাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের আর সামনে যেতে দিচ্ছে না। তারা কথা দিয়েছেন আমাদের পাঁচ দফা কাল আইজিপির কাছে পৌঁছে দেবেন। আমরা নিশ্চিত হতে চাই পাঁচ দফা দাবি আইজিপির কাছে গেছে এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করবেন। যদি কাল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা না হয় তাহলে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না দিয়ে আমরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বারান্দায় অবস্থান নেব।
ইনকিলাব মঞ্চের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে : ১) জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত সব পুলিশকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে ২) জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা, মিথ্যা প্রতিবেদন ও হয়রানিতে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩) পুলিশে ছাত্রলীগের সব ক্যাডারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে হবে। ৪) জুলাই গণহত্যার দায়ে তিরস্কৃত ও বদলি হওয়া পুলিশদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ৫) দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করা বন্ধ করতে হবে।