কর্মকর্তাদের নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলে লোকোমাস্টার (ট্রেনচালক) আবুল কালাম আজাদ। সে কারণে ‘মিথ্যা’ চুরির অভিযোগে তাঁকে দেওয়া হয় শাস্তি। অবশেষে আদালতের রায়ে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ ২৮ জানুয়ারি রায়ের কপি হাতে পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী লোকোশেডে ট্রাইব্যুনালে রায়ের কপি জমা দিয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ ফেসবুকে ‘অসৎ অফিসার’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। এ কবিতাটি ভাইরাল হয়। এ কবিতার কারণেই তাঁর চাকরিজীবেন নেমে আসে দুর্ভোগ। চালকের বিরুদ্ধে ৩০ লিটার তেল চুরির অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।’ তাঁকে এক ‘অপরাধে’ ছয়টি শাস্তি দেন রেল কর্তৃপক্ষ। এ ছয় শাস্তি হচ্ছে চালক থেকে সহকারী চালক পদে নামিয়ে দেওয়া, ১২১ দিন সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা, এ সময় সকাল-বিকাল দুবার পাকশীতে বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলীর (ডিএমই) দপ্তরে হাজিরা দিতে বাধ্য করা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি চার বছরের জন্য স্থগিত করা, ১৩তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া এবং খুলনা লোকোশেড থেকে পার্বতীপুর লোকোশেডে বদলি করা।
‘মিথ্যা অভিযোগে’ এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে দাবি করে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। দুই বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন, তিনি তেল চুরি করেননি; বরং রেলওয়ের তেল সঞ্চয় করেছেন। তাঁকে পুরস্কারের পরিবর্তে উল্টো ‘সাজানো’ অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। আদালত তাঁর শাস্তি প্রত্যাহার করে প্রতিকারের নির্দেশ দিয়েছেন।