দীর্ঘ ১০ বছর আগে শাহনূর আলম নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ সংশোধন করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ বাতিল প্রশ্নে হাই কোর্টের জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেন লিয়নের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আশরাফ রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১০ বছর এ রুলটি শুনানি হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা বিষয়টি শুনানির জন্য হাই কোর্টে উপস্থাপন করি। হাই কোর্ট রুল শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেছেন। হাই কোর্ট যদি রুলটি অ্যাবসোলুট করে রায় দেন সে ক্ষেত্রে শাহনূর আলম হত্যার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ও সিআইডিকে তদন্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া আদেশটি বহাল হবে। মামলা সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১৪ এর ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০১৪ সালের ১ জুন একটি নালিশি আবেদন করেন শাহনূরের ভাই মেহেদি হাসান। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল শাহনূরকে র্যাব-১৪ এর সদস্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেন। পরে ৬ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাহনূর মারা যান। তাই র্যাবের নির্যাতনে শাহনূরের মৃত্যু হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্যাতনে শাহনূরের মৃত্যুর অভিযোগের আবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু এ আদেশের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন অভিযুক্ত এক র্যাব সদস্য। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে নবীনগর থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তবে এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন শাহনূরের ভাই মেহেদি হাসান। ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই হাই কোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ সংশোধন করে জেলা দায়রা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।