২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি বহাল এবং সংস্কারের দাবিতে ‘লংমার্চ টু ইউজিসি’ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে শিক্ষার্থীরা প্রথমে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনের সামনে পৌঁছান। এর পর সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়, ভোগান্তি কমে। নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদাভাবে পরীক্ষা নিলে অনেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
তারা বলছেন, গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নিলে অনেকে অর্থের অভাবে আবেদন করতে পারবেন না। পাশাপাশি খরচ ও ভোগান্তি বাড়বে। এ কারণে গুচ্ছ বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।
একজন শিক্ষার্থী বলছেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকুলান সম্ভব নয়। একটি আবেদনে একবার টাকা দিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শেষ হচ্ছে। গুচ্ছ না হলে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে ভর্তির আবেদন করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে। এত অর্থ খরচ করা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাদের দাবি- গুচ্ছ পরীক্ষায় সব বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিক। ইউজিসির কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে গুচ্ছ আয়োজন ঠিক রাখে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। পরে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করতে ইউজিসি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি বহালে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে সুপারিশ করবে ইউজিসি। বৈঠক শেষে ইউজিসি সদস্য (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সিয়াম এ তথ্য জানান। পরে বিকাল ৩টায় শিক্ষার্থীরা ইউজিসির সামনে থেকে চলে যান।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, গুচ্ছ বহাল রাখতে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু এ নিয়ে সরাসরি কোনো নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। সে জন্য শিক্ষার্থীদের আমরা পরামর্শ দিয়েছি, তাদের লিখিত আবেদন করতে বলেছি। তারা যে আবেদন দেবে, সেটাতে জোর সুপারিশ করে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেওয়া সিয়াম বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা লিখিতভাবে দাবি জানাব। ইউজিসি তাদের জায়গা থেকে সুপারিশ করবে।