রাজশাহী জেলাজুড়ে প্রায় ২০০ ইটভাটা থাকলেও বৈধ মাত্র ৮টি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লোকালয়, ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে এসব দূষণকারী ইটভাটা। কয়েকটি অবৈধ ভাটায় করাতকল বসিয়ে প্রকাশ্যে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব। বরেন্দ্রভূমির টিলা ও কৃষি জমির ওপরিভাগ কেটে ইট তৈরি করায় নষ্ট হচ্ছে উর্বরতা। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, আর্থিক ম্যানেজ ফর্মুলায়, প্রশাসন এসব দেখেও, দেখে না।
বাগমারা উপজেলার শ্রীপুরের জামতলা বাজার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কেএআর ইটভাটা। সেই ভাটার ভিতরেই করাতকল। করাতে কাটা কাঠ ও গাছ পুড়ছে অবৈধ ইটভাটায়। চুল্লি থেকে সাপের ফণার মতো বের হচ্ছে ধোঁয়া। যা দূষণ করছে বায়ু ও পরিবেশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ উপজেলার সব ইটভাটা অবৈধ। বেশির ভাগ ইটভাটায় পোড়ানো হয় কাঠ।
দুর্গাপুর উপজেলার গগনবাড়িয়া গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে এসএমআই ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা। গোদাগাড়ী উপজেলায় স্কুলের পাশেই আছে আরও একাধিক ভাটা। পবার হাটচন্দ্রপুরে তিন ফসলি কৃষি জমিতে পাশাপাশি চারটি ভাটা তৈরি হয়েছে। এসএমআই ব্রিকসের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। তবে ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাটের কাগজপত্র আছে। পবার হাটচন্দ্রপুরের স্টার ব্রিকসের ম্যানেজার এমদাদুল হক জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা ভাটা পরিচালনা করছেন। যদিও তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কৃষিজমিতেও ইটভাটা অবৈধ। অথচ রাজশাহীর প্রায় শতভাগ ইটভাটা এই আইন মানছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জেলার বেশির ভাগ ইটভাটা তৈরি হয়েছে দুই বা তিন ফসলি জমিতে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিশেষত শিশুশিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। বরেন্দ্র ভূমির উঁচুনিচু টিলা ও কৃষিজমির ওপরের উর্বর অংশ কেটে তৈরি হচ্ছে ইট। এতে ফসলের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, জমির উর্বরতা কমছে।
রাজশাহীতে কাগজে কলমে ১৩০টি ইটভাটা থাকলেও বাস্তবে জেলাজুড়ে ভাটা আছে প্রায় ২০০টি। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মাত্র ৮টির লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র আছে।
রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন বলেন, রাজশাহীতে ৮টি ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স না থাকায় তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। অনেক ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। নিয়মিত অভিযান চলছে।