খুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ‘টার্গেট কিলিং’। গত আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে সহিংসতা। এর জ্বলন্ত উদাহরণ, চার মাসে ঘটেছে ১১ হত্যাকা । এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। আধিপত্য বিস্তার, মাদক বেচাকেনা ও পূর্বশত্রুতার জেরে এসব ঘটছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানা যায়, ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুরনো সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে আধিপত্য-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী দু-এক জন গ্রেপ্তার হলেও কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সিরা গ্রেপ্তার হয়নি। এতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।
সর্বশেষ ২৪ জানুয়ারি রাতে নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে অর্ণব কুমার সরকার নামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে অর্ণবের তিন সহপাঠীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের বাবা নীতীশ কুমার সরকার জানান, তাঁর ছেলের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তেঁতুলতলা মোড়ে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ছেলেকে ঘিরে ধরে খুব কাছ থেকে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এর আগে ২০ জানুয়ারি পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি মানিক হাওলাদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই দিন আযম খান কমার্স কলেজের ভিতরে নওফেল নামে একজনকে কুপিয়ে আঙুল বিচ্ছিন্ন ও বয়রা শ্মশানঘাট এলাকায় সজীব শিকদার নামে আরেক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়। ১৯ জানুয়ারি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীনকে লক্ষ করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিটি তার ফুসফুসে আটকে যায়।
অপরাধমূলক কর্মকা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। অস্ত্রের মহড়া, টার্গেট ক্লিনিং সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নানামুখী তৎপরতা চলছে। প্রতিটি হত্যাকাে র তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে খুবি শিক্ষার্থী অর্ণব হত্যা ঘটনায় তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাদের আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে শটগানের একটি ব্যবহৃত গুলি ও পিস্তলের কয়েকটি গুলি উদ্ধার করা হয়।