বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আজ অনেকে স্বাধীনতা পেয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি আবারও ১/১১ আনার পাঁয়তারা করছে। আরে! ১/১১-এর ভয়াবহ পরিণতির শিকার বিএনপির চেয়ে কেউ বেশি হয়নি। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের কোনো নেতা-কর্মী এ থেকে রেহাই পাননি। এভাবে কথা বললে দেশের গণতন্ত্রের চেহারা কেউ দেখতে পাবে না। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আরাফাত রহমান কোকোর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, আরাফাত রহমান কোকোকে চৌকশভাবে হত্যা করা হয়েছে। একদিকে যখন মা অসুস্থ, ভাইকে শারীরিকভাবে নিষ্ঠুরতম অত্যাচার করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে; তখন কোকোকে অসুস্থ অবস্থায় দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। আর লাশ হয়ে দেশে ফেরেন। খালেদা জিয়া তাঁর স্বামী হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছেন। বিনা দোষে সাত বছর বন্দি ছিলেন। আজ অনেকে জিয়া পরিবারের অবদান অবজ্ঞা করছেন। এ অবজ্ঞা শুধু জিয়া পরিবারকে নয়, দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবজ্ঞা। তিনি বলেন, এখন কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলছেন যেন বিএনপি আওয়ামী লীগের দোসর, বিএনপি ভারতের দোসর। যারা এগুলো বলছেন তারা নিজেরা নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন। তিনি আরও বলেন, আমার ১১ বছর জেল হয়েছে, আমার স্ত্রীর ১৬ বছর, আমার ছোট ভাইয়ের আট বছর সাজা হয়েছে। এমন করে বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে। আজ অনেকে বলছেন ৫ আগস্ট যারা এনেছেন, সবকিছুর অধিকার তাদের। যারা ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন তাদের কী হবে? আমি নিজেও তো ১৩ বার জেল খেটেছি। আমাদের কোনো অবদান নেই! এগুলো বলে জাতির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহস্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ।