চলমান আমন সংগ্রহ ২০২৪-২৫ মৌসুমে বগুড়া সদর উপজেলায় সিদ্ধ ও আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন হলেও অন্যান্য উপজেলা শূন্যের কোঠায়। চলতি মৌসুমে বগুড়া সদরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন; যার শতভাগ অর্জন হয়েছে। এদিকে জেলার বেশির ভাগ উপজেলায় ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কৃষক বাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় গুদামে ধান দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। যে কারণে কোনো কোনো সরকারি গুদামে ধান-চাল সংগ্রহে ভাটা পড়েছে।
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলা মিলিয়ে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৯৮৩ মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৬ মেট্রিক টন। অর্জন শতকরা ৫৮। তবে বগুড়া সদর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন। যা শতভাগ অর্জন হয়েছে। জেলার সোনাতলা, নন্দীগ্রামসহ অন্যান্য উপজেলায় নির্ধারিত পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহ হয়নি।
এবার আমন সংগ্রহের সময় প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ টাকা। সেদ্ধ ও আতপ চালের ক্ষেত্রে এ দর নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৭ টাকা। এবার চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে গত আমন মৌসুমের তুলনায় কেজিতে ৩ টাকা বেশি। এক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় গতবারের চেয়ে কেজিতে দুই-আড়াই টাকা বেশি হয়েছে ধরে নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারে এখন ধান-চালের দাম সরকারের সংগ্রহ অভিযানের জন্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি। মূলত এ কারণেই কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছেন না। এদিকে মিলাররাও বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সরকারি চুক্তি অনুযায়ী চাল দিতে পারছেন না। তারা বলছেন, চালের সরকারি মূল্যের চেয়ে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি খরচ পড়ছে।
এদিকে জেলায় চলতি বছর ৮৯৭ মিলারের মধ্যে ধান-চাল সংগ্রহে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৬৯৭ জন। প্রায় ২০০ জন তালিকাভুক্ত হননি। মিলাররা বলছেন, বাজারে চাল ও ধানের দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেছে। এ কারণে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে বেশ কিছু মিলার অংশ নেননি। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো রিয়াজুর রহমান রাজু জানান, সরকারি চাল সংগ্রহ মিলারদের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সদরের মিলাররা তাড়াতাড়ি চাল দিয়ে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। অন্যান্য উপজেলার মিলাররা বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।