জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ছাত্রশিবির এখন ছাত্রসমাজের কাছে সবচেয়ে আপন সংগঠন। রাজধানীর শহীদ আবদুল মালেক মিলনায়তনে গতকাল ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘শাখা দায়িত্বশীল কর্মশালায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় ও কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সারা দেশে শাখা দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলমগীর মোহাম্মদ ইউসুফ।
জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি মাদরাসাগুলোতেও তাদের স্বনামে দাওয়াত দেওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল। ছাত্রসমাজ থেকে দূরে রাখতে ছাত্রশিবিরের নামে নানা রকম মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তাদের নেগেটিভ চরিত্রের সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেছিল শিবিরকে তারা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, শিবিরের নাম-নিশানা মুছে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ছাত্রশিবির এখন ছাত্রসমাজের কাছে সবচেয়ে আপন সংগঠন। সাধারণ ছাত্রসমাজ শিবিরকে সভ্য, ভদ্র এবং মেধাবী ছাত্রদের ঠিকানা হিসেবে দেখে।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, গণহত্যাকারী সিন্ডিকেট : এদিকে গতকাল বরিশাল নগরের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগর ও জেলার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আগে গণহত্যার বিচার হোক, ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা আগে তাদের ইনসাফ পাক। এরপর তারাই রায় দেবেন ওনারা এদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখেন কি না। রাজনীতির নাম যদি গণহত্যা হয়, তাহলে এমন দল বাংলাদেশের জনগণ বরদাশত করবে না। রাজনীতির নাম যদি জনকল্যাণ হয়, তাহলে জনগণ যাকে পছন্দ করবে তাকে বরণ করবে। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা রাজনৈতিক দল নয় বরং গণহত্যাকারী একটি সিন্ডিকেট। আমরা যা বললাম আদালতে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করুক এটা সত্য, না মিথ্যা। কর্মী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে, এই দেশে ফ্যাসিবাদ হয়ে আর কেউ মাথা তুলতে পারবে না। চাঁদাবাজ, লুণ্ঠনকারী, দখলকারী তোমাদের বাংলাদেশ আর কখনো কবুল করবে না।