নাফ নদে মিয়ানমার সীমান্তে আটকে রাখা দুটি বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ছেড়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি। মিয়ানমার থেকে পণ্য নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফ নদের মোহনা থেকে পণ্যবাহী কার্গোগুলো তল্লাশির নামে আটকে দেয় আরাকান আর্মি। ছেড়ে দেওয়া দুটি জাহাজ গতকাল দুপুরে টেকনাফস্থল বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এখনো একটি জাহাজ ছেড়ে দেয়নি। গতকাল টেকনাফ স্থলবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজদুটি টেকনাফ বন্দরে পৌঁছেছে। কার্গো জাহাজগুলোতে ৫০ হাজার বস্তা শুঁটকি, সুপারি, কফিসহ বিভিন্ন পণ্যের আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার মালামাল রয়েছে।
একটি জাহাজ এখনো ছাড়েনি, একথা নিশ্চিত করে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর জানান, গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে আসার পথে টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা তিনটি পণ্যবাহী জাহাজকে দেশটির রাখাইন সীমান্তে নাফ নদে তল্লাশির কথা বলে আটক করে রাখে আরাকান আর্মি। আটকের চার দিন পরে সোমবার সকালে আরাকান আর্মি পণ্যবাহী দুটি জাহাজ ছেড়ে দিলে দুপুর ১২টার দিকে জাহাজ দুটি টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।
আরাকান আর্মি এখন সীমান্ত বাণিজ্যে ভাগ বসাতে চায়, একথা জানিয়ে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, পণ্যবাহী ট্রলারগুলো আটক রেখে আরাকান আর্মি কমিশন (টাকা) চাচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে তাদের (আরাকান আর্মি) পারমিট নিয়ে ট্রলার আসতে হচ্ছে। তাই দুই দেশের স্বার্থে সেখানকার ব্যবসায়ীদের উচিত তাদের সঙ্গে বসে এটার স্থায়ী সমাধান করা। অন্যথায় সীমান্তে বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
জানা গেছে, মিয়ানমারে যুদ্ধ-সংঘাতের মধ্য দিয়ে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকা দখলে নেয়। এ সংঘাতের কারণে প্রভাব পড়েছে টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমান্ত বাণিজ্যে। কিছুদিন ধরে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব পণ্য আমদানি হয় তাও ইয়াঙ্গুন শহর থেকে। এ শহর থেকে আসার পথে নাফ নদে প্রবেশ করতে রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত হয়ে আসতে হয়। সম্প্রতি বোট বা কার্গো বন্দরে এলেই তাদের ছাড়পত্র নিয়ে আসতে হয়। সুযোগ বুঝে পণ্যবাহী কার্গো আটক করে আরাকান আর্মি।