চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা থামছেই না। গত ১৫ বছর এসব মাটি কাটার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও পট পরিবর্তনের পর থেকে এ অভিযোগ বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে।
অথচ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের কিছু উপজেলায় একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এরপরও থামানো যাচ্ছে না মাটি কাটার এ মহোৎসব। আবার কিছু এলাকায় স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি কাটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব মাটির বেশির ভাগ কাটা হচ্ছে কৃষিজমি থেকে। এ ছাড়া পাহাড়, টিলা, ডোবা, খাল থেকেও মাটি কাটছেন অনেকে।
মূলত শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভরাটের কাজে দেদার মাটি কাটা হয়।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, মিরসরাই, বোয়ালখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় কৃষিজমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু অভিযান শেষ হলে আবার শুরু হয় মাটি কাটা। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা এবং জায়গা ভরাটের মাটির জোগান দিতে রাতের আঁধারে দেদার কৃষিজমির মাটি কাটা হচ্ছে।
মিরসরাই উপজেলার অনেক এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে। এসব মাটির বেশির ভাগই কাটা হচ্ছে রাতের আঁধারে। জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা যতগুলো অভিযোগ পেয়েছি সবকটি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জমি নিয়ে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের অনুরোধ করা হয়েছে। কৃষিজমির সুরক্ষায় অভিযান চলমান আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযান হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কৃষিজমি। কেননা জমির উপরিভাগের মাটি তৈরি হতে সময় লাগে। এসব মাটি কেটে নেওয়ার পর ওসব জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার অনেক এলাকায় বেশি গভীর করে মাটি কাটার ফলে আশপাশের জমিগুলোতেও ভাঙন দেখা দেয়। ফলে এক জমিতে মাটি কাটার পর আশপাশের জমিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চন্দনাইশ উপজেলায় ফসলি জমিতে মাটি কাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন ওই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। এসব অভিযানে একাধিক অভিযুক্তকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কারাদন্ডও দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও জব্দ করেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কেটে যারা প্রকৃতি ও কৃষির বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।