জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও তার স্ত্রী সীমা হামিদের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে উপ-পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা কমলেশ ম ল আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন। পরে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন। নওফেলের আবেদনে বলা হয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ওরফে নওফেল অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২ কোটি ২৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখে অপরাধমূলক অসদাচরণ এবং ৪১টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ১১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৮ টাকা লেনদেন করে মানি লন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও ঘুষ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের অবৈধ উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে এর রুপান্তর বা স্থানান্তর করে দুর্নীতি দমন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। নসরুল হামিদের নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, নসরুল হামিদের স্ত্রী সীমা হামিদ (৫৮) তার নামে অর্জিত মোট সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখে এবং নিজ নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৯ টাকা জমা হয়।
ও ১১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৮ টাকা উত্তোলনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস আড়াল করার উদ্দেশ্যে এর হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তর করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের দ বিধি ১০৯ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামি নসরুল হামিদ ওরফে নসরুল হামিদ বিপু দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তায় তার স্ত্রী সীমা হামিদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ অর্জন করতে সহায়তা করেন।
মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন।