যারা সংবাদ চুরি করে সংবাদমাধ্যম চালান, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই’ এর ব্যানারে ‘গণমাধ্যম সংস্কার প্রস্তাব : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। শফিকুল আলম বলেন, প্রেস কাউন্সিল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, নোয়াব অনেক কথা বলে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত যারা এরকম চুরি করছে, তাদের বন্ধ করে দেওয়া। কেউ দুই মাস খেটে একটা নিউজ করলেন, সেটা অন্য কোনো নিউজ পোর্টাল এক সেকেন্ডে কপি করে ফেলল। এ চুরির কারণে আপনার-আমার বেতনটা কমে যাচ্ছে। আমাদের কপিরাইট ইনফোর্সমেন্ট খুবই জরুরি।
তিনি বলেন, জার্নালিজম করতে হলে আপনাকে পয়সা খরচ করতে হবে। ভালো সাংবাদিক রাখতে হবে। সাংবাদিকদের বেতন দিতে হবে। জার্নালিস্টদের রক্ত এত সহজ নয়। জার্নালিস্টদের নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের সত্যিকার অর্থে এ বিষয়টি দেখা উচিত।
আমরা গণমাধ্যমের সংস্কার করতে যাচ্ছি। কারণ, গত ১৫ বছর শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সরকারি এজেন্সি দিয়ে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর যাতে কেউ গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে থাকা নসরুল হামিদ মিলনায়তন নামটি রাখা উচিত কি না তা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। আলোচনা সভা থেকে ১৩টি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও পেশাদারি প্রতিষ্ঠা, সরকারি নিয়ন্ত্রণ রোধে স্বতন্ত্র গণমাধ্যম কমিশন গঠন, মালিকানা ও অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সাংবাদিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও চাকরির নিরাপত্তা, বেতনকাঠামোর সংস্কার, সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংস্কার, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, বাজেটে গণমাধ্যমের জন্য বরাদ্দ রাখা, গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আঞ্চলিক ও বিকল্প গণমাধ্যমের উন্নয়ন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।