১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৫। সেই লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির। পতিত স্বৈরাচারের দোসর প্রকাশকরা বিগত বছরের বইমেলায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালির মাধ্যমে একুশে বইমেলাকে বিতর্কিত করেছে বলে এবারের মেলায় ফ্যাসিবাদের দালাল প্রকাশকদের প্যাভিলিয়ন/স্টল বাতিল করার দাবি জানিয়েছে সাধারণ প্রকাশকরা। সেই সঙ্গে স্টল ভাড়া কমানো ও বইক্রয়ের এসইডিপি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে তারা। ‘সম্মিলিত সৃজনশীল প্রকাশকবৃন্দ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত প্রকাশক বন্ধন থেকে এই দাবি জানায় প্রকাশকরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন সানুর সভাপতিত্বে এতে বক্তৃতা করেন জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান সরদার, মো. মনিরুজ্জামান, শিহাব বাহাদুর, এস এম মহিউদ্দিন কলি, মোর্শেদ আলম হৃদয়, মশিউর রহমান ও বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাসান প্রমুখ।
প্রকাশকরা বলেন, ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা পালিয়ে গেলেও প্রকাশনা সেক্টরে তার দালালরা রয়ে গেছে। এসব দালালদের প্যাভিলিয়ন ও স্টল বাতিল না করলে বইমেলা সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে না। ফ্যাসিবাদের দালাল প্রকাশকদের প্যাভিলিয়ন বাতিল করা না হলে ২০২৪-এর আন্দোলনের প্রতি অবমাননা করা হবে বলেও মনে করেন প্রকাশকরা।
তারা আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর মাত্র ১৯ জন দালাল প্রকাশক সাধারণ প্রকাশকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এ সময় বক্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বই কেনা প্রকল্প এসইডিপি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
প্রকাশকবন্ধন শেষে তারা পদযাত্রার মাধ্যমে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় প্রকাশকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বইমেলা পরিচালনা কমিটির তিনজন সদস্য যথাক্রমে সাঈদ বারী, মো. গফুর হোসেন ও মো. জহির দীপ্তি।
একুশে বইমেলা ২০২৫-এর স্টলভাড়া ৫০% কমানোর ব্যাপারে সৃজনশীল প্রকাশকদের তিন সংগঠনের সদস্যরা তাদের অনড় অবস্থানের কথা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে তুলে ধরেন।