বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের ১৬ হাজার ৭৮৯ জন অপারেটর নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা করে। এরপর রাজনৈতিক নেতাদের চাপে এসব পদে নতুনভাবে সাড়ে ৪ হাজার দলীয় নেতা-কর্মীর আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশোধিত নতুন কমিটি করে এসব দলীয় সুপারিশপ্রাপ্তকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘সেচ অপারেটর নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আপত্তি আসে। ফলে নিয়োগের তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন করে সাড়ে ৪ হাজার আবেদন নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি সংশোধিত নিয়োগ কমিটি গঠনের বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে।’
বিএমডিএ-সূত্র জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় তাদের ১৬ হাজার ৭৮৯টি গভীর নলকূপ আছে। অক্টোবরে এসব নলকূপের অপারেটর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ২৩ হাজার ৭৫০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাইবাছাই শেষে ২৩ হাজার ৭২১ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ। এরপর রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিএমডিএ অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা নির্বাচিত তালিকা বাতিল করে দলীয় লোকদের নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএমডিএর মাঠ পর্যায় ও জোনাল কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিএমডিএ কর্মকর্তারা দলীয় নেতাদের বুঝিয়ে নতুনভাবে আবেদন দিতে বলেন। এখন দলীয় সুপারিশগুলো থেকে সাড়ে ৪ হাজার প্রার্থীকে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় সুপারিশে পেছনের তারিখ দেখিয়ে সাড়ে ৪ হাজার আবেদনপত্র নতুনভাবে জমা নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ দলীয় সুপারিশ এসেছে রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা থেকে। কিছু সুপারিশ এসেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর, মান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও সদর উপজেলা থেকেও রাজনৈতিকভাবে সুপারিশ দিয়ে নতুন তালিকা জমা করা হয়েছে। এগুলো যাচাইবাছাই করছেন কর্মকর্তারা। সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাঁদের নিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএমডিএ।
সূত্র জানান, রাজশাহীর পবায় নতুন করে ২৮৩টি দলীয় আবেদন জমা হয়েছে। তানোর উপজেলার ৩১৭টি নতুন আবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তানোর উপজেলা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান একাই ২০০ জনের আবেদনে সুপারিশ দিয়ে তালিকা দিয়েছেন বিএমডিএতে। তানোর বিএনপির আরেক সাবেক নেতা ১১৭ জনের আবেদনে দলীয় সুপারিশ করেছেন। এসব নেতা প্রতিদিন বিএমডিএর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে গিয়ে তাঁদের তালিকা মোতাবেক অপারেটর নিয়োগের জন্য কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।