বিগত চার বছরে ২৪৮ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে নয়ছয়ের অভিযোগে কুষ্টিয়া বিএডিসি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কৌশলে সটকে পড়েন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীলকমল পালের নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর সেচ প্রকল্পের কার্যালয়ে অভিযানে যান। তবে অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প পরিচালকসহ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কৌশলে সটকে পড়েন।
পরে দুদক টিম প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাগজপত্র পরীক্ষানিরীক্ষা করেন এবং সরেজমিন বাস্তবায়িত প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে বের করার জন্য প্রকল্প এলাকায় যান। এ সময় দুদকের সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিবনগর সমন্বিত সেচ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা আত্মসাৎ বা তছরুপসহ সিন্ডিকেট করে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা ভাগবাঁটোয়ারা ছাড়াও নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে এসেছিলাম। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় তাঁদের কাছে তদন্ত প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিলের অনুরোধ করেছি। সেই সঙ্গে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অধীনে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অভিযোগ বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালকের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদার দিয়ে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের কারসাজিতে রাষ্ট্রের এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।