রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের কনস্টেবল সুজন হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল তাকে হাজিরের পর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও বি এম সুলতান মাহমুদ। পরে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, কনস্টেবল সুজন হোসেন এপিবিএনের সদস্য। ওনাকে ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার ওপর খুব ঠান্ডা মাথায় গুলি করছিলেন। খুব আরাম-আয়েশ করে, ভাবভঙ্গি নিয়ে আবার গুলি করছেন এবং সাতজন মারা গেছেন। তার আচার-আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি এটাকে পারসোনালি নিয়েছিলেন। এর ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। অন্য মামলায় তিনি গ্রেপ্তার ছিলেন। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন। আজ এ মামলায় ডিটেনশন (গ্রেপ্তার) আদেশ দিয়েছেন।
পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।
বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, এ ভিডিওটা ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শাহবাগ থানার মামলায় সুজন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১ জানুয়ারি তাকে হাজির করার জন্য (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) আবেদন দিয়েছিলাম। ট্রাইব্যুনাল সেটা মঞ্জুর করেছিলেন। আজ (গতকাল) তাকে হাজির করা হয়েছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় আরও কারা কারা জড়িত সেটা তদন্ত করা হচ্ছে।